হামের মৃ/ত্যু যাত্রায় যুক্ত হল আরও ১১ জন
হামে মৃত্যুর হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪০৯ জনে। এই ১১ জনের মধ্যে...

হামে মৃত্যুর হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪০৯ জনে। এই ১১ জনের মধ্যে ৪ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের জন্য হয়েছে আর বাকিদের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। হামের প্রকোপ কমতে দেড় থেকে দুই মাসের মত সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের, বাকি ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ শিশু।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা বিশ্বেই হামের সংক্রমণ বিদ্যমান কিন্তু মৃত্যুহার বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। তারা হামের এই প্রকোপের পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন এর মধ্যে অন্যতম হল সময়মত টীকা প্রদান না করা। এছাড়াও রয়েছে শিশুদের এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং না করানো, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না দেয়া, পুষ্টিহীনতা ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ৬ জন ঢাকা বিভাগের। এর বাইরে দুজন করে শিশুর মৃত্যুর হয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে। একজন বরিশাল বিভাগের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১৫০৩ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৭৮ জন শিশু যার মধ্যে ৪৯৬ জনই ঢাকা বিভাগের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১১১৬ শিশু। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৪৪৩ শিশু। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৯,১৫৯ শিশুর উপসর্গ দেখা গেছে । এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪,৯০৯ জন। তাদের মধ্যে ৬৮১৯ জনের হাম শনাক্ত হয়, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০,৮৬২।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিলেট ব্যুরো জানান, গতকাল মারা যাওয়া দুইজনসহ সিলেটে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। রবিবার মারা যাওয়া শিশুরা হলো হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আকরামুল (৯ মাস) ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া গ্রামের ইমরান মিয়ার ছেলে সাইফান (৮ মাস)। তাদের মধ্যে আকরামুল ওসমানী হাসপাতালে ও সাইফান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যান।


