অড্রে হেপবার্ন: এক অনন্য কিংবদন্তির জন্মদিন আজ

হলিউডের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের জন্মদিন আজ ৪ মে। ১৯২৯ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে জন্ম নেওয়া এই অনন্য ব্যক্তিত্ব শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, মানবিকতা, সৌন্দর্য ও সংবেদনশীলতার প্রতীক হিসেবেও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ১৯৯৩ সালের ২০ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেও তিন দশক পরও তিনি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং অনুপ্রেরণার উৎস।
শৈশবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন হেপবার্ন। নাৎসি অধিকৃত নেদারল্যান্ডসে অনাহার, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনদর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে মানবিক কাজের প্রতি তাঁর নিবেদন এই অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।

অভিনয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ছোট চরিত্র দিয়ে। ১৯৪৯ সালে টেলিভিশন চলচ্চিত্রে প্রথম কাজের পর ১৯৫৩ সালে ‘রোমান হলিডে’ ছবিতে রাজকুমারী অ্যান চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে এই ছবির জন্য তিনি অস্কার জিতে নেন। এরপর ‘সাবরিনা’, ‘ফানি ফেস’, ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিজ’ এবং ‘মাই ফেয়ার লেডি’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলেন।
প্রচলিত গ্ল্যামারের বাইরে হেপবার্নের সৌন্দর্য ছিল স্বতন্ত্র- সরলতা, স্বাভাবিকতা ও গভীর অভিব্যক্তিতে ভরপুর। ফ্যাশন জগতেও তিনি নতুন ধারা সৃষ্টি করেন এবং হয়ে ওঠেন এক স্টাইল আইকন।
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকাকালেই ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে সরে আসেন হেপবার্ন। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের অর্থ খোঁজার তাগিদ তাঁকে অন্য পথে নিয়ে যায়। আশির দশক থেকে তিনি ইউনিসেফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের কল্যাণে কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়ান।

অড্রে হেপবার্ন ছিলেন ব্যক্তিজীবনে সংযত ও অন্তর্মুখী। সেলিব্রিটি জীবনের আলোঝলকানি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একা সময় কাটানোই তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করে।
তাঁর জনপ্রিয়তার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর নামে টিউলিপ, লিলি ও গোলাপের নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে তাঁর নামে একটি সড়কের নামও রাখা হয়।
অড্রে হেপবার্ন বিরল সেই শিল্পীদের একজন, যিনি একই সঙ্গে এ্যামি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি- এই চারটি সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন। অভিনয় ও মানবিক কাজ- দুই ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান আজও বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।



