জাংকুকের বাসায় ১৩৩ বার কলিংবেল বাজানোয় ব্রাজিলীয় নারীর কারাদণ্ড

বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্য জাংকুক–এর বাসভবনে বারবার অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা ও হয়রানিমূলক আচরণের দায়ে এক ব্রাজিলীয় নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। তবে আদালত দুই বছরের জন্য সেই দণ্ড স্থগিত রেখেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই নারী একাধিকবার জাংকুকের বাসভবনে যান। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি অন্তত ২২ বার সেখানে উপস্থিত হন এবং বিভিন্ন উপায়ে গায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
প্রথমবার তিনি বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা, দেয়ালের ভেতরে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ এবং দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি পাঠানোর চেষ্টা করেন। কয়েকদিন পর আবার সেখানে গিয়ে একটানা ১৩৩ বার কলিংবেল চাপেন। আদালত এ আচরণকে ‘অস্বাভাবিক মাত্রার আসক্তি ও আবেগপ্রবণতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পরে এক খাদ্য সরবরাহকর্মীকে অনুসরণ করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি একই এলাকায় ফিরে আসেন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তার বিরুদ্ধে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাতে তিনি বাসভবনের ১০০ মিটারের মধ্যে যেতে না পারেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাও তিনি লঙ্ঘন করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ওই নারী বলেন, তিনি এসব কাজ করেছেন ‘ভালোবাসা’ থেকে এবং জাংকুকের জন্য চিঠি ও ছবি রেখে যেতে চেয়েছিলেন।
রায়ে বিচারক জানান, ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তুলনামূলক কম হওয়ায় সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে আপিলে রায় বহাল থাকলে ওই নারীকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনেও ৩০ বছর বয়সী এক চীনা নারী জাংকুকের বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে গ্রেপ্তার হন। সামরিক সেবা শেষে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ঘটনা ঘটে।



