নারীদের আইটি প্রশিক্ষণে বরাদ্দ নেই, জেন্ডার বাজেট বাস্তবায়নে জোর

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন নারী অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটও আগের তুলনায় কমানো হয়েছে, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এসব বিষয় উঠে আসে গত সোমবার অনুষ্ঠিত “২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেট: নারীসমাজের প্রতিক্রিয়া” শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ঘোষিত জেন্ডার বাজেটের যথাযথ বণ্টন, বাস্তবায়ন, তদারকি ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)। রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার ভবন-এর আজিমুর রহমান হলে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহনাজ সুমী।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি। তিনি জেন্ডার বাজেটের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে নারীর উন্নয়নে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিডির রিসার্স অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক তানিয়া হক, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু, জেন্ডার বাগেজট ও প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ নিলুফার করিম, প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার।
অধ্যাপকড. শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, নারী উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন ঘোষণা ও উদ্যোগের কোনো কমতি থাকে না। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মোট জেন্ডার বিষয়ক বাজেট প্রণয়ন করেছে ৩৪ শতাংশ, যা মোট জিডিপির ৪ শতাংশ। নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও প্রায় ৪ কোটি সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মতো কর্মসূচি প্রশংসনীয়। তবে নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত বাজেট কমেছে ১২ শতাংষ, নারীর সাইবার নিরাপত্তা খাতে কমেছে ৭ শতাংশ, নারীর চলাচল ও নিরাপত্তা খাতে কমেছে ৩০ শতাংশ, নারীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে কমেছে ২২ শতাংশ, কার্যকরভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ খাতে কমেছে ৩৪ শতাংশ।
ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দের পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের সময় সে বরাদ্দ নারী উন্নয়ন নীতির কর্মকৌশল অনুযায়ী হচ্ছে কি না তার কোনো খতিয়ান আমরা দেখতে পাই না।
ডা. মালেকা বানু বলেন, নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্নে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ, সরকারি আইনগত সহায়তা, নির্যাতনের শিকার নারীর জন্য শেল্টার হোমের সংখ্যা বাড়ানোর অত্যাবশ্যক এই প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়নি।
প্রীতিলতা হক বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত এসএসএমপি কার্যক্রমে প্রায় ৬৬ শতাংশ বাজেট কমে গেছে, যা নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, পরিবার-কেন্দ্রীক বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সেটি না হলে সাধারণ মানুষ বাজেটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।



