বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

এই গরমের সাজেও থাকবে ‘হাওয়া হাওয়াই’ ট্রেন্ড- সঙ্গী যখন পোর্টেবল ফ্যান

e8493928-dc64-4e82-b31e-98f7e00ba0ca

বাড়িতে থাকলে সবচেয়ে নরম, পাতলা আর আরামের পোশাকটিই গরমের আরাম। কিন্তু সমস্যা বাইরে বের হলে। এই তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়ার সময় ঠিক কেমন সাজলে আরামে থাকবেন, আবার পরিপাটিও দেখাবে, এই প্রশ্ন নারীদের মনে সবসময় চলতে থাকে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত অফিস যাতায়াত করেন, ভার্সিটি যান বা প্রায়ই বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বাইরে বের হতে হয়।

গ্রীষ্মকালে আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতি বারই তাদের এই চিন্তায় দিনের বেশ খানিকটা সময় নষ্ট হয়। অন্তত তারা যদি নিজেদের স্টাইল নিয়ে সচেতন হন, তা হলে তো বটেই। তবে এখন ফ্যাশনিস্তাদের আর গরমের পোশাক নিয়ে ভাবতে হবে না।

এত দিন গরমের দিনে স্বস্তি পেতে ব্যবহৃত হয়েছে পাখা! তবে এবার, ফ্যাশনের জগতে নজর কেড়েছে ‘পোর্টেবল ফ্যান’। ঘামের কথা না ভেবেই পোশাক বাছাই করছেন ফ্যাশনিস্তারা, সঙ্গে থাকছে ‘পোর্টেবল ফ্যান’।

ফ্যাশন উইকের প্রথম সারি হোক বা উইম্বলডনের স্ট্যান্ড, ইলেকট্রনিক ফ্যান থেকে মোড়ানো হাতপাখাকে ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ় হিসাবে ব্যবহার করছেন ফ্যাশনিস্তারা। শুধু বিদেশেই নয়, বিয়েবা়ড়ি থেকে আইপিএল-এর স্ট্যান্ড, অনেক মহিলার হাতেই ধরা পড়েছে এ ধরনের পাখা। লিপস্টিক, চিরুনি, পারফিউমের পাশাপাশি পাখাও এখন নিতে ভুলছেন না তরুণীরা। প্রয়োজনে তো বটেই তবে এখন পাখা হয়ে উঠেছে স্টাইল স্টেটমেন্টও।

অনলাইনে বিভিন্ন নকশার বৈদ্যুতিন পোর্টেবল ফ্যানে ছড়াছড়ি। বেগুনি, গোলাপি, হলুদ, সবুজ, যে রং চাইবেন সেটাই পেয়ে যাবেন। ইচ্ছে করলে পোশাকের রঙের সঙ্গে মানানসই কয়েকটি ফ্যানের বিকল্প কিনে রাখতেই পারেন। অনলাইনে বৈদ্যুতিন পোর্টেবল ফ্যানের দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু। ১০ হাজার টাকার ফ্যানও আছে। ফ্যানের স্পিড, সেটিংস, মোডের সংখ্যা এবং ব্যাটারি কত দিন স্থায়ী হবে— এ সব বিষয় যাচাই করে তবেই কিনুন। এগুলোর বেশির ভাগের সঙ্গেই একটি ইউএসবি চার্জিং কেব্‌ল থাকে। এক বার সম্পূর্ণ চার্জ করে নিলে প্রায় তিন ঘণ্টা (মডেলভেদে আরও বেশি) পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইলেকট্রনিক স্টোর, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি কলকাতার চাঁদনিচক মার্কেট, এসপ্ল্যানেড, হাতিবাগানের মতো বাজারেও বিক্রি হচ্ছে এমন ফ্যান। দাম অনেকলাইনের থেকে অনেকটাই কম।

ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থী রিফা। কলেজে হোক বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে শপিং, বিয়েবাড়ি হোক বা পার্টি— ঘড়ি, ব্যাগ, কানের দুল, চুলের গয়নার পাশাপাশি এখন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সঙ্গে পোর্টেবল ফ্যানটি নিতে ভোলে না। রিফা বলেন, ‘আমার কাছে দু-তিনটি পোর্টেবল ফ্যান আছে, এ বার ভাবছি একটা গোলাপি রঙের ফ্যান কিনব। রংটা বেশ চোখে লাগার মতো।’

কেবল শিক্ষার্থী বা অফিসকর্মী নয়, ব্রিটেনের সঙ্গীত শিল্পী ফ্র্যাঙ্কি ব্রিজকেও দেখা গিয়েছে উইম্বলডনের স্ট্যান্ডে পোর্টেবল ফ্যান নিয়ে বসে থাকতে। সাদা জাম্পশুট, চোখে কালো রোদদশমা আর হাতে হালকা গোলাপি রঙের ফ্যান— ভিড়ের মাঝেও ফ্র্যাঙ্কির সাজ ছিল বেশ নজরকাড়া। লুই ভিতোঁর ফ্যাশন শোয়ে প্রথম সারিতে এমনই একটি ফ্যান হাতে বসতে দেখা গিয়েছে বিট্রেনের সুপার মডেল নাওমি ক্যাম্পবেলকেও।

‘কুল’ ফ্যাশনে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক পোর্টেবল ফ্যানেরই দাপট বাড়েনি, এখন মিলেনিয়াল আর জেন জ়ি-র আলমারিতে উঁকি মারছে হাতপাখাও। গুচি, ডিওরের মতো বিলাসবহুল সংস্থাগুলোর পাশাপাশি, এইচএনএম, ম্যাঙ্গোর মতো সংস্থাগুলিও এখন নতুন নতুন প্রিন্টের হাতপাখা মার্কেটে আনছে। এমন হাতপাখার চাহিদাও বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। এই ধরনের হাতপাখা এখন শুধু জাপানি মহিলাদের সাজের অনুষঙ্গ হিসাবেই সীমিত নেই, বিশ্ব জুড়েই নারীদের নিত্যদিনের ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

গরমট্রেন্ডপোর্টেবলফ্যানফ্যাশন