কেঁদেও রক্ষা হয়নি, বাধ্য হয়েই অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়- মুখ খুললেন নায়িকা

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের পরিচিত অভিনেত্রী মোহিনী আবারও আলোচনায় এসেছেন পুরোনো এক অভিজ্ঞতা নিয়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ১৯৯৪ সালের তামিল সিনেমা ‘কানমানি’-তে একটি অন্তরঙ্গ ও গ্ল্যামারাস দৃশ্যে অভিনয় করতে তাঁকে প্রবল মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।
‘আভাল বিকাটান’-কে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, ছবির একটি সুইমস্যুট দৃশ্য নিয়ে শুরু থেকেই তাঁর গভীর আপত্তি ছিল। তাঁর ভাষায়, তিনি নিজেকে সেই দৃশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে আপত্তিও জানিয়েছিলেন। এমনকি শুটিং সেটে কান্নাকাটির ঘটনাও ঘটে এবং একপর্যায়ে পুরো ইউনিটের কাজ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
মোহিনীর অভিযোগ অনুযায়ী, সাঁতার না জানার বিষয়টিও তিনি বারবার তুলে ধরেছিলেন। পাশাপাশি তখন নিরাপদ ও উপযুক্ত নারী প্রশিক্ষকের অভাব ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পুরুষ প্রশিক্ষকদের সামনে এমন দৃশ্যে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য মানসিকভাবে অস্বস্তিকর ছিল বলে জানান এই অভিনেত্রী।
তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে চাপের মুখে পড়ে ওই দৃশ্যের শুটিং সম্পন্ন করতে হয় বলে দাবি করেন মোহিনী। তিনি বলেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু অংশের শুটিং শেষ করতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে একই ধরনের আরেকটি দৃশ্য উটির লোকেশনে শুট করার পরিকল্পনা থাকলেও তিনি তাতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। অভিনেত্রীর ভাষ্য, তিনি নির্মাতাদের পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে শুটিং বন্ধ হলে সেটি প্রযোজকদের বিষয়, তাঁর নয়।
মোহিনী আরও বলেন, ‘কানমানি’ সিনেমায় তাঁর চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ছিল, তবে কিছু বিতর্কিত দৃশ্যের কারণে সেই কাজ যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে তাঁর আক্ষেপ রয়েছে।
এদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচালক বা প্রযোজনা পক্ষের কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, একসময় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় মুখ ছিলেন মোহিনী। তিনি কাজ করেছেন শিবাজি গণেশন, চিরঞ্জীবী, মোহনলাল, মামুট্টি, নন্দমুরি বালকৃষ্ণ, বিক্রম ও সুরেশ গোপীর মতো তারকাদের সঙ্গে। এছাড়া তিনি হিন্দি সিনেমাতেও কাজ করেছেন, যার মধ্যে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ‘ড্যান্সার’ উল্লেখযোগ্য। তাঁর সর্বশেষ বড় পর্দায় উপস্থিতি ছিল ২০১১ সালের মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘কালেক্টর’-এ।



