বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

শপিং নারীর রাগ-জেদ কমায় ও সৃজনশীলতা বাড়ায়, বলছে গবেষণা

medium-shot-excited-woman-shopping_23-2149313440

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে ‘রিটেইল থেরাপি’ নামে একটি ধারণা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, কেনাকাটা শুধুমাত্র প্রয়োজন মেটানোর বিষয় নয়; এটি মানুষের আবেগ, মানসিক চাপ এবং আত্মপ্রকাশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে শপিং মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুভূতি এবং সৃজনশীল চিন্তাকে সক্রিয় করতে পারে। তাই অনেক মনোবিজ্ঞানী মনে করেন, পরিমিত শপিং রাগ, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ যখন নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিছু কেনে, তখন তার মধ্যে নিয়ন্ত্রণবোধ তৈরি হয় এবং মনের নেতিবাচক আবেগ কমে যায়। জার্নাল অফ কনজ্যুমার সাইকোলজি এর গবেষণা অনুযায়ী, কেনাকাটা মানুষকে দ্রুত আনন্দ দেয় এবং দুঃখ বা হতাশার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা আনন্দ ও প্রশান্তির অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে ক্ষণিকের রাগ, জেদ বা মানসিক চাপ অনেকটাই নরম হয়ে যায়।

নারীরা সাধারণত অনুভূতিনির্ভর সিদ্ধান্ত বেশি নেয়, তাই শপিং তাদের জন্য অনেক সময় আবেগ প্রকাশের নিরাপদ উপায় হয়ে দাঁড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, স্ট্রেস বা একঘেয়েমির সময় মানুষ এমন কাজের দিকে ঝোঁকে যা তাকে তাত্ক্ষণিক সুখ দেয়, আর শপিং সেই ভূমিকা পালন করতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কেনাকাটার সময় নতুন রং, ডিজাইন, ফ্যাশন বা সাজসজ্জা নিয়ে ভাবতে গিয়ে মানুষের সৃজনশীল চিন্তা সক্রিয় হয়। অর্থাৎ শপিং শুধু খরচ নয়, এটি এক ধরনের আইডিয়া-জেনারেটিং অভিজ্ঞতাও।

শপিং মল বা বাজারের পরিবেশও সৃজনশীলতাকে উদ্দীপিত করে। বিভিন্ন পণ্য, ভিজ্যুয়াল ডিজাইন ও নতুন ট্রেন্ড মানুষের মস্তিষ্কে নতুন ধারণা তৈরি করে এবং কল্পনাশক্তি বাড়ায় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক, সাজসজ্জা বা ঘর সাজানোর জিনিস বাছাই করার সময় নারীরা নিজস্ব রুচি প্রকাশের সুযোগ পায়, যা আত্মবিশ্বাস ও মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়। তবে গবেষকরা সতর্কও করেছেন যে, অতিরিক্ত বা নিয়ন্ত্রণহীন কেনাকাটা উল্টো সমস্যার কারণ হতে পারে। সাময়িক আনন্দ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলে আবার মানসিক অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে। তাই শপিংকে মানসিক যত্নের একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, আসক্তি হিসেবে নয়।

সচেতন ও সীমিত শপিং নারীদের জন্য এক ধরনের আবেগগত থেরাপি হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি রাগ ও জেদের তীব্রতা কমায়, মনকে হালকা করে এবং নতুন চিন্তা-ভাবনার দরজা খুলে দেয়। জীবন শুধু দায়িত্বের নয়, আনন্দ ও আত্মপ্রকাশেরও জায়গা; আর কখনো কখনো একটি ছোট কেনাকাটাই মনকে নতুনভাবে সাজিয়ে দিতে পারে।

কমায়ডোপামিননারীরাগশপিং