গানে গানে সন্জীদা খাতুনকে স্মরণ

ছায়ানটে ‘মিনু আপা’ বলে পরিচিতি রয়েছে সন্জীদা খাতুনের। তরুণ বয়স থেকেই সন্জীদা খাতুন যুক্ত হয়েছেন আন্দোলন-সংগ্রামে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ছিল অগ্রগণ্য ভূমিকা। ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁকে সবাই চেনেন। এ ছাড়া শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু এড়িয়ে সংগঠক, সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবেও তাঁর অবদান অসামান্য। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন সন্জীদা খাতুন; যিনি ছিলেন বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার এক অনন্য আলোকবর্তিকা।
সন্জীদা খাতুনের স্মরণে, তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এক অনাড়ম্বর অথচ হৃদয়স্পর্শী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের নিচতলায় আন্তরিকতা আর মমতার আবহে গড়ে উঠেছিল ‘গানে গানে শ্রদ্ধার্ঘ্য’ আয়োজন। সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে যখন একে একে জড়ো হচ্ছিলেন সন্জীদা খাতুনের দীর্ঘদিনের সহকর্মী, স্নেহে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীরা, তখন পুরো পরিবেশ যেন হয়ে উঠেছিল স্মৃতি আর ভালোবাসার এক সম্মিলিত ক্ষেত্র।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সমবেত সংগীত। একে একে পরিবেশিত হয় ১৫টি গান। ‘তোমার সুরের ধারা’, ‘গানের ভিতর দিয়ে’, ‘গানে গানে তব বন্ধন’, ‘আমি কী বলে করিব নিবেদন’–এসব গানের সুরে ভেসে উঠছিল শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর অপার ভালোবাসা। প্রতিটি গানের সঙ্গে যেন যুক্ত হচ্ছিল ব্যক্তিগত স্মৃতি, শিষ্যত্বের গর্ব এবং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। গানের পাশাপাশি ছিল একটি দলীয় আবৃত্তি। সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল সংগীতায়োজন। প্রচলিত বাদ্যযন্ত্রের জৌলুস এড়িয়ে, অনুষ্ঠানজুড়ে ব্যবহার হয় কেবল তানপুরা ও মন্দিরা। এই সরলতা যেন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে গানের মর্ম, কণ্ঠের গভীরতা এবং অনুভূতির স্বচ্ছতা। সুরের এই সংযমই হয়ে উঠেছিল শ্রদ্ধার সবচেয়ে নির্মল প্রকাশ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শোনা যায় সন্জীদা খাতুনের নিজের কণ্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ‘জানি জানি গো দিন যাবে’ এর অডিও। সন্জীদা খাতুনের প্রয়াণ শুধু একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হয়।



