ছোটবেলার ঘোড়ার আবদার, শেষমেশ গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড

শৈশবে ঘোড়া পোষার স্বপ্ন ছিল মিরান্ডা ওয়ারবির। কিন্তু ছোট্ট মিরান্ডার সেই আবদারে সাড়া দেননি মা-বাবা। আসল ঘোড়া না পাওয়ার সেই অপূর্ণতা যে একদিন তাঁকে বিশ্ব রেকর্ডের মালিক করে দেবে, তা হয়তো তখন কেউই ভাবতে পারেননি।
যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা মিরান্ডা শেষ পর্যন্ত নিজের ভালোবাসার জায়গা খুঁজে নেন ঘোড়ার আদলে তৈরি খেলনায়। বিশেষ করে ‘মাই লিটল পনি’ সিরিজের খেলনা ঘোড়া হয়ে ওঠে তাঁর শৈশবের সঙ্গী। গোলাপি রঙের ‘স্নোফ্লেক’ নামের প্রথম খেলনাটি হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ সংগ্রহের গল্প।
সময়ের সঙ্গে সেই সংগ্রহ আর শুধু শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একে একে বাড়তে থাকে খেলনা ঘোড়ার সংখ্যা। বর্তমানে মিরান্ডার সংগ্রহে রয়েছে ৪ হাজার ৫৫০টি ‘মাই লিটল পনি’। এত বড় সংগ্রহের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায়।
মিরান্ডার সংগ্রহের শুরুটা অবশ্য বেশ স্বাভাবিকভাবেই। কখনো নিজের পছন্দে কিনেছেন, কখনো পেয়েছেন উপহার হিসেবে। তবে একটা সময় খেলনা ঘোড়া সংগ্রহ করাই তাঁর নেশায় পরিণত হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইন্টারনেট সহজলভ্য হতে শুরু করলে তাঁর সংগ্রহের জগৎও যেন আরও বড় হয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা দুর্লভ খেলনা ঘোড়ার সন্ধান পেতে শুরু করেন তিনি। মিরান্ডার ভাষায়, ছোটবেলায় তিনি প্রায় সব খেলনাই সংগ্রহ করতে চাইতেন। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলোই পাওয়া যেত শুধু নির্দিষ্ট কিছু দেশে। পরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তের সংগ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পছন্দের খেলনা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁর শখ আরও গভীর হয়ে ওঠে। ১৯৯৭ সালের দিকে তিনি নিয়মিতভাবে খেলনা ঘোড়া সংগ্রহ শুরু করেন। সংগ্রহ যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে সেগুলো রাখার জায়গার প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে খেলনাগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখার জন্য মিরান্ডাকে বড় একটি বাড়িতে উঠতে হয়। ছোটবেলার একটি শখ তখন রীতিমতো বিশাল সংগ্রহশালার রূপ নিয়েছে।
তাঁর সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে দুর্লভ খেলনাগুলোর একটি হলো থাইল্যান্ডে তৈরি ‘ফায়ারবল’। জানা যায়, পুরো বিশ্বে এ খেলনার মাত্র দুটি রয়েছে। তবে দুর্লভ হওয়ার কারণে এটিই মিরান্ডার সবচেয়ে প্রিয় নয়। তাঁর হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের খেলনাটি হলো ‘মেগান অ্যান্ড সানড্যান্স’, যা তিনি পেয়েছিলেন মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই খেলনাটির প্রতি তাঁর আলাদা আবেগ রয়েছে।
মিরান্ডার কাছে খেলনাগুলো তাই শুধু প্লাস্টিকের তৈরি কিছু পুতুল নয়। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর শৈশব, আনন্দ, স্মৃতি এবং দীর্ঘদিনের ভালোবাসা। সেই স্মৃতিকাতরতাই হয়তো এত বছর পরও তাঁর সংগ্রহের প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছে।
নিজের কোনো শখ বা ঝোঁক নিয়ে লজ্জা না পাওয়ার পরামর্শ দেন মিরান্ডা। কারণ তাঁর নিজের ক্ষেত্রেই একটি ছোট্ট শৈশবের ইচ্ছা ধীরে ধীরে এমন এক সংগ্রহে পরিণত হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব রেকর্ডের খাতায়।
আর মজার বিষয় হলো, ৪ হাজার ৫৫০টি খেলনা ঘোড়া সংগ্রহ করেও থামেননি মিরান্ডা। পছন্দের তালিকায় থাকা নতুন কোনো ‘মাই লিটল পনি’র খোঁজ পেলেই সেটি নিজের সংগ্রহে যোগ করার জন্য ছুটে যান তিনি। অর্থাৎ, ছোটবেলায় আসল ঘোড়া না পাওয়ার যে গল্প দিয়ে শুরু হয়েছিল, সেই গল্পের দৌড় এখনো থামেনি।



