২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

চট্টগ্রামের মাটিতে যে কন্যা লিখেছিলেন আত্ম’ত্যাগের ইতিহাস

IMG_a7df536f-7dc0-475f-a688-df08b324f0a5

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে সাহস, আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমের এক অনন্য নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। চট্টগ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা এই বিপ্লবী নারী মাত্র ২১ বছর বয়সেই স্বাধীনতার স্বপ্নে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ আজও উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনুপ্রেরণার অধ্যায় হয়ে আছে।

১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করে একদল তরুণ বিপ্লবী। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন প্রীতিলতা। সাহসিকতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনার পর ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মাহুতি দেন এই বীরকন্যা। আজ তাঁর ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস। সেই অগ্নিঝরা দিনটি পেরিয়ে ৯৪ বছর পরও প্রীতিলতার নাম উচ্চারিত হয় আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতীক হিসেবে।

প্রীতিলতা ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধাদের একজন। ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে তাঁর জন্ম। বাবা জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল অফিসে হেড কেরানি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা প্রতিভা দেবী ছিলেন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী প্রীতিলতার শিক্ষাজীবনও ছিল কৃতিত্বে ভরা। চট্টগ্রাম নগরের ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্কসহ ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। এরপর ইডেন মহিলা কলেজে পড়ার সময়ই বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
১৯২৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত আইএ পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় পঞ্চম এবং ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন প্রীতিলতা। পরে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রামের নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। নারী বিপ্লবীদের সংগঠিত করা ও তাঁদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই বিপ্লবী।

প্রীতিলতার জীবনের শেষ অধ্যায়টি ছিল আরও বেশি সাহসী। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। অভিযানের পর পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার বদলে আত্মাহুতির পথ বেছে নেন।

মাত্র ২১ বছরের জীবনে প্রীতিলতা রেখে গেছেন দীর্ঘ ইতিহাস। তাঁর জীবন ছিল স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য এক তরুণীর দৃঢ় সংকল্পের প্রতিচ্ছবি। তাই সময় পেরোলেও প্রীতিলতার আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে দেয়—স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় বয়স কখনো সাহসের সীমা হতে পারে না।

Advertisements
Advertisements