স্বস্তিতে ঈদে ঘরমুখী মানুষ, সময়মতো ছাড়ছে ট্রেন

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। অনলাইনে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা থাকলেও এবারের ঈদযাত্রায় রেলপথে বড় কোনো ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ ঘরমুখো হচ্ছেন। একইসঙ্গে ট্রেন সময়মতো ছাড়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।
আজ সোমবারেও স্বস্তিতে ঢাকা ছেড়েছেন হাজারও মানুষ। সড়ক, নৌ ও রেলপথে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন ঘরমুখো মানুষ। এখনো সরকারি অফিস, গার্মেন্ট খোলা থাকায় সড়কে মানুষের চাপ কম। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন দেখা যায়, সোমবার সকাল থেকে দু-একটি ট্রেন সামান্য বিলম্বে ছাড়লেও বাকি সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আজ বিকালের পর থেকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হতে পারে। স্টেশনে যাত্রীদের উপস্থিতি অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল। কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, সকালে ‘তিতাস কমিউটার’ ৩০ মিনিট এবং চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি ট্রেন ৫০ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে। তবে এর বাইরে সব ট্রেনের সূচি ছিল স্বাভাবিক। স্টেশন মাস্টার আরো বলেন, এখনো ঈদে বাড়ি ফেরার সেই পরিচিত জনস্রোত শুরু হয়নি। তবে তারা ধারণা করছেন, আজ দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার কড়া অবস্থানে রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন-যার টিকিট নেই, তার প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা জানান, আগে স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের জরিমানা করে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হলেও এবার সেই প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবং যারা আগেভাগে টিকিট কেটেছেন তাদের ভোগান্তি কমাতে এ কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঈদ উদ্যাপন করতে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে একসঙ্গে গফরগাঁও যাচ্ছেন মাদ্রাসার ১১ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে বয়সে বড় আহমদ আমিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবার মাদ্রাসা ছুটি হলে তাঁরা এভাবেই বাড়ি যান। এবার কাটতেও কোনো সমস্যা হয়নি।
আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিড় নেই। নির্দিষ্ট ট্রেন ছাড়ার আগমুহূর্তে প্ল্যাটফর্মগুলোয় যাত্রীরা জড়ো হয়েছেন। ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পরপরই আবার প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা হয়ে গেছে। ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোয় সিটের বাইরে অতিরিক্ত যাত্রীও চোখে পড়েনি। তবে বেশ কয়েকটি ট্রেনে বগি নম্বর না থাকায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেক যাত্রী।



