৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়

del-hc

কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছে বৈধ ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। জাতীয় নিরাপত্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, জনস্বাস্থ্য, পররাষ্ট্রনীতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিবেচনায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ চাইলে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও কোনো বিদেশিকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দিতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট।

তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের করা একটি মামলার শুনানিতে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন। ওই নারী বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে ভারতে পৌঁছালেও দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি এবং সেখান থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেয়। তবে একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

সংগৃহীত

এরপর ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন ওই নারী। পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্যও দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অমিত মহাজন এ মামলার বিষয়ে আদেশ দেন। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভিসা হাতে থাকা মানেই কোনো বিদেশি নাগরিকের জন্য ভারতে প্রবেশের নিঃশর্ত অধিকার তৈরি হয় না। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদেশির প্রবেশে বাধা দিতে পারে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভিসা প্রদান, কোনো বিদেশিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং অভিবাসন ছাড়পত্র দেওয়া—এসব বিষয় রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনের মতো বিষয়ও এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে।

মামলার শুনানিতে ভারত সরকারের পক্ষে আইনজীবীও একই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে জানান, কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে ভারতে প্রবেশের অখণ্ডনীয় অধিকার হিসেবে দেখা যায় না। ভিসা প্রদান এবং দেশে প্রবেশের অনুমতি—দুটি পৃথক বিষয়। কোনো ব্যক্তিকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা অভিবাসন আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত।

Advertisements

সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে আরও জানানো হয়, ওই নারীকে নিয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছিল। সেসব তথ্য পর্যালোচনা করার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওই নারীর পূর্ববর্তী ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যও কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে আদালতে জানানো হয়। নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিনি মোট ৪৭ বার ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। এসব সফরের বেশির ভাগই ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। ওই সময়ে তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা—দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করেছিলেন।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিচারপতি অমিত মহাজন কিছু অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করেন। আদালতের সামনে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল। ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবসার কথা বলা হলেও তার কাছে কোনো ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া নিজের দেশে তিনি কী ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়। ফলে তার ব্যবসায়িক সফরের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

আদালত আরও দেখতে পায়, ওই নারী ব্যবসায়িক ভিসার জন্য আবেদন করলেও নিজেকে ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নথিপত্র এবং দেওয়া তথ্যের মধ্যে থাকা এসব অসঙ্গতিও মামলাটি বিবেচনার সময় আদালতের নজরে আসে।

সব তথ্য, নথি এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর দিল্লি হাইকোর্ট ওই নারীর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত পুনরায় উল্লেখ করে, কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছে বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ তার স্বাভাবিক বা আইনগতভাবে নিশ্চিত অধিকার নয়। দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, জনস্বাস্থ্য, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Advertisements