মুসলিম যুবককে জমি দিয়ে ‘চাকরি নিশ্চিত করলেন’ হিন্দু প্রতিবেশী

চাকরি পাওয়ার আনন্দটা যেন হঠাৎই ম্লান হয়ে গিয়েছিল মৌলভীবাজারের জুড়ীর এক মুসলিম তরুণের। নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হলেও ভেরিফিকেশনের সময় সামনে আসে এক অপ্রত্যাশিত জটিলতা। নিজের নামে তো নয়ই, এমনকি বাবার নামেও ছিল না কোনো স্থাবর সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকা ওই তরুণের চাকরিটি শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।
তবে সেই অনিশ্চয়তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তরুণটির স্বপ্নের চাকরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো বিষয়টি জানতে পেরে এগিয়ে আসেন তার এক হিন্দু প্রতিবেশী। কোনো ধরনের আর্থিক বিনিময় বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই তিনি তরুণটির নামে এক শতক জমি লিখে দেন। শুধু জমি দেওয়াই নয়, জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচও বহন করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশনের সময়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চাকরিপ্রার্থী ওই তরুণের বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় ভেরিফিকেশনে জটিলতা তৈরি হয়। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকা তরুণের পরিবারের সমস্যার কথা জানতে পারেন প্রতিবেশী ওই ব্যক্তি। এরপরই নিজ উদ্যোগে তিনি এক শতক জমি দানের সিদ্ধান্ত নেন। কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই সম্পত্তিটি তরুণটির নামে লিখে দেন তিনি। এমনকি এর জন্য প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ও নিজের পক্ষ থেকে পরিশোধ করেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন। তবে দাতা ও গ্রহীতার পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
সাব-রেজিস্ট্রার জানান, চাকরি পাওয়া ওই তরুণের বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি ছিল না। ভেরিফিকেশনে এ কারণে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর প্রতিবেশী হিন্দু ভদ্রলোক স্বপ্রণোদিত হয়ে এক শতক জমি দান করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করা একটি পরিবারের জন্য এই জমি হয়তো খুব বড় কোনো সম্পত্তি নয়। কিন্তু একজন তরুণের স্বপ্নের চাকরি ধরে রাখার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। আর সেই প্রয়োজনের মুহূর্তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানোয় ঘটনাটি পেয়েছে ভিন্ন এক তাৎপর্য।
স্থানীয়দের মতে, সমাজে নানা বিভাজনের আলোচনা যখন প্রায়ই সামনে আসে, তখন জুড়ীর এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্ম নয়, মানবিকতাই সবচেয়ে বড় পরিচয়। একজন তরুণের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে একজন প্রতিবেশীর এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগ তাই সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক আস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।



