৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

ধর্ষণের অভিযোগের পর অনশন, সেই ৮০ বছরের বৃদ্ধার সঙ্গে ৭০ বছরের বৃদ্ধের বিয়ে

ccb8cc26342035970d64561f438cfd63

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ধর্ষণের অভিযোগের বিচার দাবিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে টানা চারদিন অনশন করা ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে শেষ পর্যন্ত ওই ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আরশেদ আলীর সঙ্গে শাহিদা বেগমের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রার লোকমান হোসেনের কার্যালয়ে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে ছিলেন আরশেদ আলীর ছোট ছেলে জুয়েল হোসেন এবং তার দুই আত্মীয়।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিগলআটা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী শাহিদা বেগম গত রোববার রাতে আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। তার পরিবারের দাবি, ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে আরশেদ তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

শাহিদার ছেলে হেলাল মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার সময় তার মায়ের চিৎকার শুনে নাতি রাসেল সেখানে গিয়ে আরশেদ আলীকে আটক করেন। পরে আশপাশের লোকজনও সেখানে উপস্থিত হন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর আরশেদ আলীর ছেলে ও নাতিরা লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার আশ্বাস দেন। স্থানীয় মজিবর রহমান ও জাবেদ আলী এ বিষয়ে ভুক্তভোগীকে আশ্বস্ত করেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সালিশে কোনো সমাধান না হওয়ায় শাহিদা বিচারের দাবিতে আরশেদ আলীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।

গত মঙ্গলবার থেকে তিনি ওই বাড়িতে অনশন শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাকে সেখানে অনশনরত অবস্থায় দেখেছেন বলে জানা গেছে।

Advertisements

স্থানীয় বাসিন্দা হাফজুর রহমানের দাবি, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আরশেদ আলী, তার ছেলে জুয়েল হোসেন ও কয়েকজন আত্মীয় শাহিদাকে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তাদের জানানো হয়, ঘাটাইলের একটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে দুজনের বিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে শাহিদাকে তার অনশনস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তার ছেলে হেলাল মিয়া এবং নাতি নাজমুল হাসান, শিপন ও রাসেল গোপালপুর থানায় যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ এবং অনশনরত অবস্থায় শাহিদাকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে চেয়েছিলেন।

নাজমুল হোসেনের অভিযোগ, থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বরং তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তার দাবি, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হয় এবং পরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাদের জানানো হয়, ঘাটাইলের একটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে শাহিদার সঙ্গে আরশেদ আলীর বিয়ে হয়ে গেছে।

নাজমুলের অভিযোগ, পুলিশ তাদের মামলা করার পরিবর্তে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করার পরামর্শ দিয়েছে।

শাহিদার ছেলে হেলাল মিয়া বলেন, তারা মায়ের বিয়ের খবর জানতে থানায় যাননি। তার মায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার নয়, বরং মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়েই তারা থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ গ্রহণ না করে বিয়ের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে আরশেদ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তার ছেলে জুয়েল হোসেনের দাবি, একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে এবং শাহিদাকে দিয়ে কয়েকদিন ধরে তাদের বাড়িতে অনশন করিয়েছে।

জুয়েল হোসেনের ভাষ্য, পারিবারিক সম্মান রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে শাহিদা বেগমকে রাজি করানো হয় এবং পরে ঘাটাইলের নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তাদের দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। তিনি জানান, ৫০ হাজার টাকা কাবিন নির্ধারণ করে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে।

তবে শাহিদার পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়েটিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, তারা ধর্ষণের ঘটনার বিচার চেয়েছিলেন; এর পরিবর্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে শাহিদার বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহিদা বেগমকে সেখানে পায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে থানায় এসে অভিযোগ করতে হয়। শাহিদা থানায় উপস্থিত না থাকায় ওই সময় মামলা নেওয়া হয়নি।

থানায় কাউকে আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন ওসি। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরবর্তীতে থানায় এসে অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী মামলা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: যুগান্তর

Advertisements