বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ১৫ হাজার গ্রহাণু

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ১৫ হাজার গ্রহাণু

মহাকাশে অসংখ্য গ্রহাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর অনেকগুলো আবার পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি আসে। বিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, এদের মধ্যে এমন হাজার হাজার গ্রহাণু রয়েছে যেগুলো পৃথিবীতে আঘাত করলে একটি পুরো শহর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো এসব গ্রহাণু ঠেকানোর মতো নির্ভরযোগ্য কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা বিজ্ঞানীদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন নাসার ভারপ্রাপ্ত প্ল্যানেটারি ডিফেন্স অফিসার কেলি ফাস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে অনুষ্ঠিত আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স সম্মেলনে দেওয়া তার এই সতর্কবার্তায় বিজ্ঞানী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কেলি ফাস্ট জানিয়েছেন, বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার গ্রহাণু শনাক্ত করেছেন যেগুলো আকারে অন্তত ১৪০ মিটার বা তার চেয়ে বড়। এই আকারের কোনো গ্রহাণু পৃথিবীতে অঞ্চলভেদে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। কিন্তু প্রায় ১৫ হাজার শহর-বিধ্বংসী গ্রহাণু এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এসব গ্রহাণু যেকোনো সময় বিনা সতর্কবার্তায় পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে।

নাসার মতে, মাঝারি আকারের গ্রহাণুগুলো শনাক্ত করা সবচেয়ে কঠিন। অনেক গ্রহাণু খুব অন্ধকার এবং সূর্যের আলো কম প্রতিফলিত করে। ফলে মহাকাশের পটভূমিতে এগুলো সহজে ধরা পড়ে না। আবার কিছু গ্রহাণু পৃথিবীর কক্ষপথ অনুসরণ করে চলে যার কারণে খুব কাছে না আসা পর্যন্ত তাদের শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

গ্রহাণু ঠেকানোর প্রযুক্তি নিয়েও এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২২ সালে নাসার ডার্ট মিশন একটি ছোট গ্রহাণুর গতিপথ সামান্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের পদ্ধতি কাজে লাগাতে হলে অনেক আগে থেকেই গ্রহাণুর অবস্থান জানা প্রয়োজন। হঠাৎ করে কোনো অজানা গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে এলে সেটিকে প্রতিহত করার মতো প্রস্তুত ব্যবস্থা বর্তমানে নেই।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। নাসা ‘নিয়ার–আর্থ অবজেক্ট সার্ভেয়ার’ নামে একটি বিশেষ মিশন নিয়ে কাজ করছে। এটি একটি ইনফ্রারেড মহাকাশ দূরবীন, যার মাধ্যমে অন্ধকার বা কম দৃশ্যমান গ্রহাণুর তাপ শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আধুনিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ সাধারণত বিশাল গ্রহাণু নয় বরং মাঝারি আকারের যেগুলো আগে থেকে ধরা পড়ে না। তাই ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে গ্রহাণু শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আরও উন্নত করা জরুরি।

যদিও তাৎক্ষণিক কোনো বড় বিপদের খবর নেই তবু মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অজানা গ্রহাণুগুলো নিয়ে গবেষণা ও নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ মহাবিশ্বে ছোট একটি পাথরও কখনো কখনো পুরো পৃথিবীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements