বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

যে খাবারগুলোকে ফ্রিজ থেকে দূরে রাখবেন

101411_163

ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অভ্যাস। কেননা ফ্রিজ খাবার সংরক্ষণের জন্য সবথেকে ভালো মাধ্যম। তবে কিছু কিছু খাবারের ক্ষেত্রে এটি আবার বিপরীতও হতে পারে। খাবারের মান ঠিক রাখতে এই খাবারগুলো ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।

মধু
মধু প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অক্ষত থাকে। কিন্তু ফ্রিজে রাখলে মধু ক্রিস্টালাইজ বা জমে যেতে পারে। এটি শুধু দেখতে খারাপ লাগে না বরং ঘন হওয়ায় খাওয়ার স্বাদও কমে যায় এবং ব্যবহার করা অসুবিধাজনক হয়। মধু সংরক্ষণের জন্য এটি ঠাণ্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক স্থানে রাখা সবচেয়ে ভালো।

তেল (জলপাই, নারকেল, সয়াবিন ইত্যাদি)
প্রাকৃতিক তেল ফ্রিজে রাখলে ঠাণ্ডায় জমে যায় এবং স্থিতি পরিবর্তন হয়। তেলের স্বাভাবিক স্বাদ এবং গন্ধ কমে যায়। উদাহরণস্বরূপ জলপাই তেল ফ্রিজে রাখলে এটি দুধের মতো ঘন হয়ে যেতে পারে যা রান্নায় ব্যবহার করতে অসুবিধা সৃষ্টি করে। তাই তেলকে রুম টেম্পারেচারে, আলো এবং তাপ থেকে দূরে রাখা উত্তম।

আলু
আলু ফ্রিজে রাখলে এতে থাকা শর্করা গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয় যা ভেতরের স্বাদ বদলে দেয় এবং রান্নায় এটি মিষ্টি স্বাদের হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া ফ্রিজে রাখা আলু শুষ্ক হয়ে যায় এবং সহজেই পচন ধরতে পারে। ৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় (৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) আলু সবচেয়ে ভালো থাকে। একটি কাগজের ব্যাগে ঢুকিয়ে মোটামুটি ঠান্ডা কোনো রুমে আলু সংরক্ষণ করা যেতে পারে। আলুতে যাতে সূর্যের আলো না লাগে। সূর্যের আলো পড়লে আলুতে ক্লোরোফিল জমা হয় এবং খেতে বিস্বাদ লাগে।

Advertisements

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ সতেজ থাকার জন্য পর্যাপ্ত বায়ু সঞ্চালন প্রয়োজন। ফ্রিজে যেহেতু উন্মুক্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই তাই পেঁয়াজ ফ্রিজে না রাখাই ভালো। বরং কোনো ঠান্ডা রুমে মেঝেতে ছড়িয়ে রাখা যেতে পারে কিংবা ছিদ্রযুক্ত ব্যাগ বা পাতিলে ভরে রাখা যেতে পারে।
পেঁয়াজ ও আলু কখনো পাশাপাশি রাখবেন না। পেঁয়াজ আর্দ্রতা ও গ্যাসনিঃসরণ করে যার ফলে আলু দ্রুত পচে যেতে পারে। তবে কাটা পেঁয়াজ বায়ুরোধক বক্সে করে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।

রসুন
রসুন সবচেয়ে ভালো থাকে ৬০-৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে (১৫-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। ফ্রিজে না রেখে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন কোনো পাত্রে রসুন রাখলে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

পাউরুটি ও বেকারি পণ্য
পাউরুটি ফ্রিজে রাখলে ভালো থাকে সত্যি তবে আর্দ্রতা কমে গিয়ে রুক্ষও হয়ে যায়। আর ফ্রিজে রাখলে খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা উত্তম। আর যদি নিয়মিত পাউরুটি খাওয়া হয় তাহলে ফ্রিজে রাখার দরকার নেই। সাধারণ তাপমাত্রায় পাউরুটি ১-২ দিন ভালো থাকে।

টমেটো
ফ্রিজে টমেটো রাখলে এর স্বাদ ও টেক্সচার নষ্ট হয়। ঠাণ্ডা তাপমাত্রা টমেটোর রস ও মিষ্টি স্বাদ কমিয়ে দেয় এবং এর বাইরের অংশ শক্ত হয়ে যায়। টমেটোকে রুম টেম্পারেচারে, আলো থেকে দূরে রাখা ভালো।

কফি ও চা
ফ্রিজে কফি বা চা রাখলে আর্দ্রতা এবং গন্ধ শোষণ করে যা স্বাদ পরিবর্তন করতে পারে। কফি বা চা সব সময় এয়ারটাইট কনটেইনারে, ঠাণ্ডা ও অন্ধকার স্থানে রাখা উচিত যাতে এর ফ্রেশনেস বজায় থাকে।

সস
সসে ভিনেগার ও প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকে। তাই এই খাবারটি স্বাভাবিক পরিবেশেই ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে বরং এর গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে।

মৌসুমি ফল
কিছু ফল যেমন কলা, আম, পেঁপে ফ্রিজে রাখলে তাদের স্বাভাবিক পরিপক্বতা ব্যাহত হয়। ঠাণ্ডা তাপমাত্রা ফলকে কালচে করতে পারে এবং স্বাদ কমিয়ে দেয়। এ ধরনের ফল রুম টেম্পারেচারে রাখলে তা ধীরে ধীরে পাকে প্রাকৃতিক স্বাদ বজায় রাখে।

বাদামজাতীয় খাবার
বাদামজাতীয় খাবারের স্বাদ ঠিক রাখতে এগুলোকে ফ্রিজ থেকে দূরে রাখুন। বায়ুরোধক পাত্রে বাদাম সংরক্ষণ করা ভাল। এই উপায়ে অন্তত ৩ মাস বাদাম ভালো থাকবে।

অ্যাভোকাডো
এই সবজিটি কাঁচা অবস্থায় সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রাতেই সবচেয়ে ভালো থাকে। পাকলে সবজিটি নরম হয়ে যায়। তখন এটি খাওয়ার উপযোগী হয়। তবে পাকা অ্যাভোকাডার স্থায়িত্ব আরেকটু বাড়ানোর জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।

ক্যাপসিকাম
নরম ক্যাপসিকাম খেতে ভালো লাগে না। তাই এই সবজিটিকে কখনো ফ্রিজে রাখা উচিত না। ঠান্ডা তাপমাত্রায় ক্যাপসিকামের ক্রাঞ্চ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চকলেট
চকলেট সাধারণ তাপমাত্রা ও শুষ্ক পরিবেশে এমনিতেই ভালো থাকে। এটিকে ফ্রিজে রাখার দরকার নেই। বরং ফ্রিজে রাখলে অন্যান্য খাবারের ঘ্রাণ যোগ হয়ে চকলেটের আসল ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

বেগুন
যদি কেনার কয়েক দিনের মধ্যে বেগুন খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে এটি এমনিতেই রাখা যেতে পারে। ফ্রিজে রাখার দরকার নেই। ফ্রিজে রাখলে বেগুনের স্বাদ ও ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে বেগুন কিন্তু বেশিদিন ভালো থাকে না। কেনার ২-১ দিনের মধ্যে খেলে ভালো।

গুঁড়া মসলা
শুকনা গুঁড়া মসলা সাধারণ তাপমাত্রাতেই রাখা ভালো। ফ্রিজে রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়।

ফ্রিজ খাবার সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি সকল খাবারের জন্য সুবিধাজনক নয়। খাবার সংরক্ষণের জন্য সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ, স্বাদ এবং টেক্সচার অক্ষত থাকে। যেসব খাবার ফ্রিজে রাখা ঠিক নয় সেগুলোকে শীতল, শুকনো ও অন্ধকার স্থানে রাখা স্বাস্থ্যকর ও কার্যকর সমাধান।

Advertisements
খাবারফ্রিজস্বাস্থ্য