বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

গুচ্ছ কবিতা-অনুবাদ

গুচ্ছ কবিতা-অনুবাদ

কয়বার তোকে বেশ্যা ডেকেছে লোকে?

হাতে হাত রেখে তুমুল দ্বিধান্বিত

যাব কি যাব না অই ছায়াপথ ধরে,

কুয়া খুঁড়ে জল তুলতে চাইছ তাতার।

শুধু মনে হলো

পাছে লোকে কিছু বলে!

আমি তো জেনেছি

কালিমা শুধুই নারীর।

কয় বার তোকে

বেশ্যা ডেকেছে লোকে?

লিলিথ এখনো

পিশাচ তালমুদ-এ।

রাত নেমে এলে

একা পুরুষকে ডাকে।

ঝড়ের প্রারম্ভে

কথা না হলে ক্ষতি ছিল না-র অপর পিঠে থাকে শূন্যতা।

ধীরজ কচ্ছপ গতি,

পিঠে তার শতবর্ষী পুরুষের স্বাদ।

একটা কচ্ছপ কয়টা পৃথিবী দেখে? যতগুলো পৃথিবীর ভার

আমাদের চোখে-মুখে-ঠোঁটে?

যতগুলো পৃথিবী নিয়ে তুমি হাঁটতে থাকো মিছিলে?

কালো প্রজাপতি

প্রেমে ও বিক্ষোভে জমা থাকে জঠর আমার

কামসূত্রমতো তবে ঘোড়া হয়ে পুরুষের পরে।

ওয়াজে বয়ানে চলে নারী রবে সযতনে নিচে।

অথচ দেখেছি ঘোর ঘোড়াতেই পুরুষের জমে।

যে তারা বয়ানে ভাসে বীর হবে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে,

সে তারা জানে না আজও প্রণয়ের স্বাদ কাকে বলে।

আমি তো দেখেছি তাকে চুমু খেতে পায়ের আঙুলে।

মাথা যার নুয়ে আসে এলোচুলে বিলি কেটে দিলে।

পুরুষ প্রেমিক হবে যদি হয় কালো প্রজাপতি,

ডানা যার নুয়ে আসে ঘোর এলে নারীর শরীরে।

চোখেরা বড়ো তীক্ষ্ন

চোখ খেয়েছে চোখের মাথা মন খেয়েছে মন।

এমন ঝোড়ো-বাদলা দিনে বিভোর আলিঙ্গন

কোথায় আর পেলাম বল পলক ফেলা দায়

পাছে তুমি চোখে হারাও বৃষ্টি ও বর্ষায়।

গুহাচিত্রের মুখ

তোমার সাথে হাঁটতে না পারার বিষাদে

দেয়ালে আলো-আলো গুহাচিত্র আঁকে

ভোর ও সকাল।

এবড়োখেবড়ো দেয়াল জানালার ওপার

অন্য এক দালানের পেছন।

সম্মুখে যার মসৃণ সাদা

ঈদের নতুন আলো ও রং।

অথচ কী গভীর ও গোপন

গুহার মতোন এই পেছন-দেয়াল।

খরখরে পলেস্তরা-খসা আদিম ও অটল।

যেমন সন্তর্পণে তুমি

পা ফেলো কদাচিৎ

আর খসে যায়

ঝড় ও জল।