আপত্তিকর স্পর্শের শি’কার হয়েছিলেন প্রিয়ন্তী উর্বী

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে শৈশবের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন তিনি। সেই তিক্ত স্মৃতি আজও তাঁকে মানসিকভাবে তাড়া করে ফেরে।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী লিখেছেন, কিছু ঘটনা মানুষ কখনো পুরোপুরি ভুলে যেতে পারে না; সময়ের সঙ্গে শুধু নীরবে বাঁচতে শেখে। তাই নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন তিনি, যেন মনের ভেতরের অস্থিরতা কিছুটা হলেও থেমে থাকে।
তিনি আরও জানান, যখনই কোনো শিশুর নির্যাতন বা ধর্ষণের খবর সামনে আসে, তখন ভেতর থেকে ভেঙে পড়েন তিনি। কারণ, ছোটবেলায় তিনিও ‘ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট টাচ’-এর শিকার হয়েছিলেন।
উর্বীর ভাষ্য, তখন বয়স খুব কম ছিল। কী ঘটছে তা পুরোপুরি বুঝতেন না, তবে অনুভব করতেন বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। তাঁর কথায়, “আব্বু-আম্মু তো কখনো এভাবে ধরেনি”- এই উপলব্ধিই শিশুমনে ভয় আর অস্বস্তির জন্ম দিয়েছিল। তিনি মনে করেন, এমন অভিজ্ঞতা একটি শিশুর মনে দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক, প্রশ্ন আর না-বলা কান্নার জন্ম দেয়।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে, সেই প্রসঙ্গ টেনেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ তারা শুধু একজন মানুষকে আঘাত করে না, বরং একটি শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস ও শৈশবকে ধ্বংস করে দেয়।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে বাবাকে ভীষণভাবে মনে পড়ার কথাও জানান উর্বী। ব্যস্ততার মাঝেও কখনো কখনো সবকিছু ছেড়ে কোথাও হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি- এমন এক জায়গায়, যেখানে কেউ তাঁকে চিনবে না, আর হয়তো সেখানে কিছুটা শান্তি মিলবে।



