বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

অড্রে হেপবার্ন: যিনি হয়ে উঠেছিলেন আধুনিক নারীর নতুন প্রতীক

Untitled-4

আজ হলিউডের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের প্রয়াণ দিবস। শুধু রুপালি পর্দার তারকা নন, মানবিকতা, রুচিশীল সৌন্দর্য ও সংবেদনশীলতার এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছেন তিনি। ১৯৯৩ সালের এই দিনে সুইজারল্যান্ডে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন অড্রে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর আবেদন একটুও ফিকে হয়নি। আজও তিনি অনুপ্রেরণা বহু শিল্পী ও দর্শকের।

১৯২৯ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে জন্ম অড্রে হেপবার্নের। তাঁর শৈশব কেটেছে যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অধিকৃত নেদারল্যান্ডসে অনাহার, ভয় ও অনিশ্চয়তা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। মানুষের কষ্টের সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে তাঁর মানবিক কাজের পেছনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কখনো কখনো সেই স্মৃতির প্রতিফলন মিলেছে তাঁর গল্প ও কথাবার্তায়।

ছোট চরিত্র থেকে বিশ্বজয়ের পথে

অড্রের অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল ছোট চরিত্র দিয়ে। ১৯৪৯ সালে টেলিভিশন সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন তিনি। তবে ১৯৫৩ সালে ‘রোমান হলিডে’ ছবিতে রাজকুমারী অ্যান চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রাতারাতি তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এই ছবির জন্য মাত্র ২৪ বছর বয়সেই জিতে নেন অস্কার।

Advertisements

এরপর ‘সাবরিনা’, ‘ফানি ফেস’, ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিস’, ‘মাই ফেয়ার লেডি’—একটির পর একটি ছবিতে অভিনয় করে অড্রে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন দর্শকদের হৃদয়ে। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি হয়ে উঠেছেন আধুনিক নারীর নতুন এক ব্যাখ্যা।

অড্রের সৌন্দর্য ছিল প্রচলিত গ্ল্যামারের বাইরে। তাঁর মধ্যে ছিল সরলতা, স্বাভাবিকতা আর গভীর অভিব্যক্তির মিশেল, যা তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দিয়েছে। ফ্যাশনের জগতেও তিনি এনেছিলেন নতুন ধারা। কখনো কালো গাউন, কখনো ছোট চুল, বড় চোখ—সব মিলিয়ে অড্রে হেপবার্ন হয়ে ওঠেন এক চিরন্তন স্টাইল আইকন।

ক্যারিয়ারের শীর্ষ থেকে ভিন্ন পথে

অভিনয়ের শীর্ষে থেকেও একসময় ধীরে ধীরে পর্দা থেকে দূরে সরে যান অড্রে। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর জীবনের অর্থ খোঁজার তাগিদ তাঁকে নিয়ে যায় অন্য পথে। আশির দশক থেকে তিনি যুক্ত হন ইউনিসেফের সঙ্গে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে যেন ফিরে যান নিজের শৈশবের স্মৃতিতে। বাংলাদেশে এসেও শিশুদের সেই কষ্টের কথা বলেছিলেন তিনি।

আলো-ঝলকানির বাইরে এক জীবন

সাধারণত তারকাদের জীবন মানেই আলো, ক্যামেরা আর মানুষের ভিড়। কিন্তু অড্রে হেপবার্ন ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি একা থাকতে ভালোবাসতেন। নিজের ‘অন্তর্মুখী’ স্বভাব নিয়ে কোনো আড়াল করেননি। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি খুব খুশি হব, যদি শনিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত একা বাসায় থাকতে পারি। এভাবেই আমি নতুন করে শক্তি পাই।”

নামে ফুল, নামে রাস্তা

অড্রের জনপ্রিয়তার প্রমাণ মেলে তাঁর নামেই। টিউলিপ, লিলি ও গোলাপ—তিনটি ফুলের নামকরণ হয়েছে তাঁর নামে। ১৯৫৯ সালে হলিউডের কাছাকাছি লাস ভেগাসে তাঁর নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়, যা তখন পর্যন্ত কোনো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা।

চার মহাদেশীয় সম্মান

অড্রে হেপবার্ন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যিনি একই সঙ্গে এ্যামি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি—এই চারটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছেন।

‘রোমান হলিডে’ ছবির জন্য অস্কার, ‘গার্ডেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড উইথ অড্রে হেপবার্ন’ উপস্থাপনার জন্য এ্যামি, ‘অড্রে হেপবার্ন এনচ্যানটেড টেলস’ অ্যালবামের জন্য গ্র্যামি এবং ফরাসি নাটক ‘অনজিনা’-তে অভিনয়ের জন্য টনি পুরস্কার পান তিনি।

১৯২৯ সালের ৪ মে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি ১৯৯৩ সালের ২০ জানুয়ারি পৃথিবীকে বিদায় জানান। তবে অড্রে হেপবার্ন আজও বেঁচে আছেন তাঁর কাজ, সৌন্দর্য আর মানবিকতার মধ্য দিয়ে।

Advertisements