১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

জার্মানিতে পিঠা উৎসব: প্রবাসে বাঙালির ঐতিহ্য ও শেকড়ের মিলনমেলা

Untitled-7

বাঙালির জীবনে পিঠা কেবল একটি খাবার নয় এটি শৈশবের স্মৃতি, গ্রামবাংলার ঘ্রাণ আর পারিবারিক উষ্ণতার আবেগী প্রতীক। সেই চেনা ঐতিহ্যই হাজার মাইল দূরে জায়গা করে নিল জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট শহরে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাঙালিদের জন্য আয়োজনটি হয়ে উঠল স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও শেকড়ের টানের এক জীবন্ত মিলনমেলা।

গতকাল শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, জার্মান সরকারের নিবন্ধিত বাংলাদেশি সংগঠন Friends & Family Germany e.V.–এর উদ্যোগে ফ্রাংকফুর্টের গিরিসহাইম এলাকার একটি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য ‘পিঠা উৎসব ২০২৬’।

প্রায় এক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে পুরো কনফারেন্স হলটি যেন রূপ নেয় গ্রামবাংলার এক টুকরো উঠোনে। শিশুদের উচ্ছ্বাস, আর বাঙালি দম্পতিদের ঐতিহ্যবাহী সাজে আয়োজনটি ধারণ করে খাঁটি বাঙালিয়ানার আবহ। রঙিন শাড়ি, পাঞ্জাবি আর গ্রামীণ অলংকরণে ফুটে ওঠে বাংলার উৎসব, পরিবার ও লোকজ জীবনের চিরচেনা ছবি।

উৎসবে ছিল বাঙালি নারীদের হাতে তৈরি নানা রকম ঐতিহ্যবাহী পিঠা— পুলি, পাটিসাপটা, দুধচিতই, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ছিট পিঠা, দুধকুলি, ক্ষীরকুলি, তিলকুলি, ফুলঝুড়ি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠা, মালাই পিঠা, মালপোয়া, পাকন পিঠা, ঝাল পিঠাসহ আরও বহু স্বাদের পিঠা। এসব পিঠা যেন একসঙ্গে জানান দিচ্ছিল বাঙালির পিঠাশিল্প, রসনাবিলাস ও নান্দনিক ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা।

পিঠা উৎসবকে ঘিরে ছিল মধ্যাহ্নভোজ, সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের পরিচিতি পর্ব, শৈশবের স্মৃতিচারণা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরো আয়োজন যেন গল্প আর গানের সুরে শৈশবে ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন ভ্রমণ।

কেউ ফিরে গেছেন মায়ের হাতে বানানো পিঠার স্বাদে, কেউ শাশুড়ির আদরে, কেউবা নানির স্মৃতিতে, আবার কেউ মনে করেছেন প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো শীতের সকালের কথা।

Advertisements

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মো. মানিক মিয়া। যৌথ উপস্থাপনায় ছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী ও শ্মিতা মোতালেব। প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের কণ্ঠে ভেসে আসে লালন, রবীন্দ্রসংগীতসহ বাংলার পুরোনো দিনের গান ও আঞ্চলিক সুর।

এত বড় পরিসরে আয়োজিত এই পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক আনন্দ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ। আয়োজনটি আবারও প্রমাণ করেছে— দেশের মাটি থেকে হাজার মাইল দূরেও বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিকড় আজও সমানভাবে জীবন্ত ও দৃঢ়ভাবে প্রোথিত।

Advertisements