একসঙ্গে দৌড়ালেন হাজার নারী, সঙ্গে শিশুরাও

ভোরের আলো তখনো ঠিকমতো ফোটেনি। শীতের হালকা কুয়াশায় ঢাকা হাতিরঝিল ছিল প্রায় নিস্তব্ধ। চেনা শহরের কোলাহল বা যানজটের কোনো চিহ্ন ছিল না। মনে হচ্ছিল, রাজধানী তখনো ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই দৃশ্য পাল্টাতে শুরু করে।
শুক্রবার ভোরে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার এলাকায় ধীরে ধীরে ভিড় জমতে থাকে। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে একই রঙের পোশাকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নারী ও শিশুরা। কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ আবার পরিবার নিয়ে। নারীদের অংশগ্রহণে দ্বিতীয়বারের মতো এই দৌড়ের আয়োজন করে ‘অ্যাক্টিভ পালস বাংলাদেশ’।
ঘড়ির কাঁটা যখন সাড়ে ৬টা ছুঁয়েছে, তখন আয়োজকদের পক্ষ থেকে সবাইকে ট্র্যাকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দৌড় শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর শুরু হয় কাউন্টডাউন। মুহূর্তের মধ্যেই ট্র্যাকে নামেন এক হাজার নারী।
এবারের আয়োজনে ছিল দুই ও সাত কিলোমিটারের দুটি ইভেন্ট। দুই কিলোমিটারে অংশ নেন ৩০০ জন এবং সাত কিলোমিটারে দৌড়ান ৭০০ জন। সকাল পৌনে ৭টার দিকে দৌড় শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল পাঁচ বছর থেকে শুরু করে সত্তরেরও বেশি।
দৌড়ের ভিড়ে নজর কাড়ে ছয় বছরের ওয়াসেনাথ বিনতে কবির। সে দৌড়ায় তার মা জাকিয়া ফারজানা ও বড় বোন ওয়ানিয়া বিনতে কবিরের সঙ্গে। দৌড় শেষ করে দুই বোন গিয়ে দাঁড়ায় তাদের বাবার পাশে।
ওয়াসেনাথের বাবা ফজলুর কবির জানান, তাদের পরিবারের সবাই দৌড় পছন্দ করেন। বড় মেয়ে আগেও একাধিক ম্যারাথনে অংশ নিয়েছে। শুক্রবারের এই দৌড়ের জন্য ভোর ৪টা থেকেই তাদের প্রস্তুতি শুরু হয়। তারা মিরপুর ডিওএইচএস থেকে রওনা হয়ে সকাল ৬টার মধ্যেই হাতিরঝিলে পৌঁছান। ওয়াসেনাথ পড়ে মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুলের নার্সারিতে, আর তার বোন ওয়ানিয়া দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
ফজলুর কবির আরও বলেন, তার স্ত্রীও এখন পর্যন্ত চারটি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। সময় পেলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হন তারা। বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ওয়াসেনাথ জানায়, ‘আপুকে নিয়ে আমার দৌড় শেষ। এখন মায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আবার দৌড়াব।’
এদিন আরও অনেক শিশুও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে শীত উপেক্ষা করে দৌড়ে অংশ নেয়। দৌড় শেষে মেডেল পরানোর সময় তাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। আয়োজনের শেষ পর্বে ছিল র্যাফেল ড্র।
আয়োজকদের কাছ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ‘অ্যাক্টিভ পালস বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু। এখন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে তারা ১৪টি লাইভ ম্যারাথনের আয়োজন করেছে। ২০২৫ সালে নারীদের অংশগ্রহণে প্রথম ম্যারাথনের আয়োজনের পর এবার অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় আসর।
এবারের ম্যারাথনের লক্ষ্য ছিল সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান অধিকার এবং সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা। এই আয়োজনে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পুলিশ উইম্যান্স নেটওয়ার্ক ও জেসিআই বাংলাদেশ। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সাফোলা অ্যাক্টিভ প্লাস।
অ্যাক্টিভ পালস বাংলাদেশের কো-ফাউন্ডার মোরছালিন আহমেদ বলেন, দৌড়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতেই এই উদ্যোগ। দৌড় মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়।



