২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য দোয়া করা যাবে?

groom-is-putting-wedding-ring-hi

মানুষের মনে কারও প্রতি ভালো লাগা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সেই মানুষটিকে ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছাও অনেকের মনে জন্ম নিতে পারে। তবে এমন আকাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষেত্রে ইসলামে বৈধ পথ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের মনের কথা মহান আল্লাহর কাছে তুলে ধরে দোয়া করা যেতে পারে।

অনেকের প্রশ্ন, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বিয়ের জন্য চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা জায়েজ কি না। ইসলামী দৃষ্টিতে, কোনো নির্দিষ্ট নারী বা পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা বৈধ। তবে দোয়ার সময় শুধু নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর না করে আল্লাহর জ্ঞান ও সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখা উচিত।

কারণ মানুষ কোনো বিষয়কে নিজের জন্য ভালো মনে করলেও তার পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখে না। একজন মানুষকে পছন্দ হলেও তার সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন সুখের হবে কি না, তা মানুষ জানে না। তাই দোয়ার মধ্যে কল্যাণের বিষয়টি যুক্ত করে দেওয়া উত্তম।

এভাবে বলা যেতে পারে—‘হে আল্লাহ, অমুক ব্যক্তির সঙ্গে আমার বিবাহে যদি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য কল্যাণ থাকে, তাহলে তাকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করুন এবং আমাদের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিন। আর যদি তার মধ্যে আমার জন্য অকল্যাণ থাকে, তাহলে আমার মনকে তার প্রতি আসক্তি থেকে ফিরিয়ে দিন এবং আমার জন্য এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন, যার মধ্যে আমার কল্যাণ রয়েছে।’

পবিত্র কোরআনে উত্তম জীবনসঙ্গী ও সন্তানের জন্য একটি সুন্দর দোয়া উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ বলেন—

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

Advertisements

উচ্চারণ: ‘রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিও ওয়াজআলনা লিলমুত্তাকিনা ইমামা।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ করুন।’ —সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭৪

এ ছাড়া হজরত মুসা (আ.)-এর একটি দোয়াও বিপদ ও প্রয়োজনের সময়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। মাদায়েনে অবস্থানকালে তিনি আল্লাহর কাছে বলেছিলেন—

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

উচ্চারণ: ‘রব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।’

অর্থ: ‘হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি অবশ্যই তার মুখাপেক্ষী।’ —সুরা আল-কাসাস, আয়াত ২৪

কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.)-এর জন্য আশ্রয়, জীবিকার ব্যবস্থা এবং পরবর্তী সময়ে বিবাহের সুযোগ সৃষ্টি করেন।

বিয়ে ইসলামে শুধু পার্থিব সম্পর্ক নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈধ বন্ধন ও দায়িত্ব। তাই কাউকে পছন্দ হলে হারাম কোনো পদ্ধতিতে তাকে পাওয়ার চেষ্টা না করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং বৈধভাবে বিয়ের উদ্যোগ নেওয়াই উচিত।

তবে দোয়া করার পাশাপাশি আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে। কারণ মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কোনো বিষয়কে কল্যাণকর মনে করতে পারে, অথচ আল্লাহর জ্ঞান মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তাই নির্দিষ্ট কাউকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে নিজের জন্য কল্যাণকর জীবনসঙ্গী ও সুন্দর ভবিষ্যৎ চাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisements