২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

নারীদের জন্য চালু গোলাপি বাসে যাত্রী সংকট, প্রতিদিন ৬০ হাজার টাকা লোকসান

file_00000000eeb08208a181e2fe3ab787e3

নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গণপরিবহন নিশ্চিত করতে ঢাকায় চালু করা ‘গোলাপি বাস’ প্রত্যাশিত যাত্রী পাচ্ছে না। ১০টি রুটে চলাচল করা এসব বাসে যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা লোকসান গুনছে।

গত ১৮ আগস্ট নারী চালক ও নারী সহকারী দিয়ে এই বিশেষ বাসসেবা চালু করা হয়। শুরুতে উদ্যোগটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও এক মাসের মধ্যেই যাত্রী সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে ঢাকায় নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা চালুর আরও তিনটি উদ্যোগ সফল হয়নি।

সম্প্রতি কামালাপুর ডিপো থেকে মিরপুর-১২-এর উদ্দেশে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে একটি ৭৫ আসনের গোলাপি বাস ছেড়ে যায়। পথে মতিঝিল, পল্টন, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, আসাদগেট, কল্যাণপুর হয়ে বাসটি মিরপুরে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে। তবে পুরো যাত্রাপথে বাসটিতে সর্বোচ্চ ১৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন।

প্রতিটি বাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ নারী যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে এই সেবা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল।

সীমিত সময়সূচিই বড় বাধা

যাত্রীদের মতে, গোলাপি বাসের অন্যতম বড় সমস্যা হলো সীমিত সময়সূচি। বর্তমানে প্রতিটি রুটে দিনে মাত্র দুটি ট্রিপ পরিচালিত হচ্ছে—একটি সকালে এবং অন্যটি বিকেলে। নির্ধারিত সময়ের বাস মিস করলে পরবর্তী ট্রিপের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে সাধারণ বাস বা অন্য পরিবহন ব্যবহার করছেন।

Advertisements

আসাদগেট থেকে বাংলামোটরে নিয়মিত যাতায়াতকারী আতিকা আক্তার এই সেবাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি বাসটির অবস্থান জানতে তিনি বাস সহকারীর ফোন নম্বরও নিয়েছেন। তবে যানজটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে বাস আসাদগেটে পৌঁছায় না। কখনো কখনো ২০ মিনিট পর্যন্ত দেরি হয় বলেও জানান তিনি।

তার মতে, বাসের অবস্থান জানার জন্য একটি লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধা চালু করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমতে পারে। এতে ফোন করে বাসের অবস্থান জানার প্রয়োজন হবে না।

সব রুটে মিলছে না প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা

মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন আরেক নারী জানান, গোলাপি বাসের কথা শুনলেও তিনি এখনো এতে উঠতে পারেননি। কারণ তার যাতায়াতের রুটে এই বাস চলাচল করে না এবং বিদ্যমান সময়সূচিও তার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যাত্রীদের অভিযোগ, সীমিত রুট, অনিয়মিত সময়সূচি এবং অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়ের সঙ্গে ট্রিপের সময় না মেলার কারণে অনেক নারী এই সেবা ব্যবহার করতে পারছেন না।

এ ছাড়া অনেক নারী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যাতায়াত করেন। ফলে শুধু নারীদের জন্য নির্ধারিত বাস তাদের সব ধরনের যাত্রার ক্ষেত্রে কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠছে না।

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার শিমু প্রথমবার ফার্মগেট থেকে গোলাপি বাসে ওঠেন। তিনি নিয়মিত ফার্মগেট থেকে কল্যাণপুর যাতায়াত করেন। তবে প্রতিদিন একই পথে চলাচল করলেও এর আগে রাস্তায় গোলাপি বাসটি তার চোখে পড়েনি বলে জানান তিনি।

Advertisements