টরন্টো উৎসবে ইতিহাস গড়ে অস্কারের পথে ‘অ্যাং’

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জেতার পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘অ্যাং’। আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে ছবিটির সরাসরি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে টিআইএফএফের প্রতিযোগিতায় জয় পাওয়ার সুবাদে।
৩১ বছর বয়সী থেজা রিওর জন্য ‘অ্যাং’ বিশেষ একটি কাজ। এর আগে ২০২১ সালে একই গল্প নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই ছবিটি ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার অর্জন করে। এবার সেই গল্পকেই আরও বিস্তৃত করে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন নির্মাতা।

টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি ‘অ্যাং’-কে বিজয়ী নির্বাচিত করে। পুরস্কার হিসেবে ছবিটির নির্মাতা দল পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার। সিনেমাটির নির্মাণশৈলী, স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতিকে আবেগঘনভাবে তুলে ধরার বিষয়টি জুরিদের প্রশংসা পেয়েছে।
নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি শহর কোহিমায় জন্ম নেওয়া থেজা রিও এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে ‘অ্যাং’কে ঘিরে কাজ করেছেন তারা। নিজেদের গল্প নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকেই বলার যে বিশ্বাস ছিল, সেটি ধরে রেখেই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন।
সিনেমাটির গল্পের পটভূমি ১৯৬০-এর দশক। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের ঘন জঙ্গলের মধ্যে থাকা একটি প্রত্যন্ত কনিয়াক গ্রামকে ঘিরে কাহিনি এগিয়েছে। গ্রামের প্রধান আংবা লক্ষ্য করেন, ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষ পুরোনো বসতি ছেড়ে নতুন জায়গায় চলে যাচ্ছে। কাছেই আমেরিকান মিশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নতুন বসতিতে গিয়ে তারা গ্রহণ করছে ভিন্ন জীবনধারা।
পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা এবং নতুন ভাষার সঙ্গে তাদের জীবনে পরিবর্তন আসছে। বিপরীতে পুরোনো গ্রামে থেকে যান আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী এবং বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আমাও। একসময় তারা হয়ে ওঠে হারিয়ে যেতে বসা একটি সংস্কৃতি ও জীবনধারার শেষ প্রতিনিধি।
পরিবারটির গল্পের মধ্য দিয়ে নির্মাতা তুলে ধরেছেন উপনিবেশের প্রভাব, ধর্মীয় পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক রূপান্তরের নানা দিক। ব্যক্তিগত জীবনের সংকটের সঙ্গে একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অতীত হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও এখানে একসঙ্গে উঠে এসেছে।

থেজা রিওর মতে, নিজের সম্প্রদায়ের গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তার জন্য অত্যন্ত আবেগের। টিআইএফএফের জুরির স্বীকৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র মঞ্চে পৌঁছানো তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা।
এবারের অস্কারের ক্ষেত্রে ‘অ্যাং’-এর যাত্রাটিও কিছুটা আলাদা। সাধারণ নিয়মে প্রতিটি দেশ আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে নিজেদের একটি চলচ্চিত্র পাঠায়। তবে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের ছয়টি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সিনেমাগুলো সরাসরি গ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছে অ্যাকাডেমি। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতার বিজয়ী হওয়ায় ‘অ্যাং’ সেই সুযোগ পেয়েছে।
অন্যদিকে, ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ভারতের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে মারাঠি থ্রিলার ‘গোন্ধল’। সন্তোষ দাভাখারের পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় সিলভার পিকক পুরস্কার পেয়েছিল।
ফলে ২০২৭ সালের অস্কারে ভারতের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব ঘিরে ‘অ্যাং’ ও ‘গোন্ধল’—দুটি সিনেমাকেই কেন্দ্র করে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



