ভেন্টিলেশনে শিশু হুজাইফা, অবস্থা সংকটজনক

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের চিকিৎসা চলছে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে (নিনস)। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুটির শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটজনক। তাকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, গুলির আঘাতে হুজাইফার মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে স্ট্রোকের মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের ডান পাশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
নিনসের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু জানান, প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য মাথার খুলির ডান পাশ খুলে অপারেশন করতে হয়েছে। বর্তমানে তার জ্ঞানমাত্রার স্কোর (গ্লাসগো কোমা স্কেল) ১৫-এর মধ্যে ৭, যা গুরুতর অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার চমেক হাসপাতালে হুজাইফার চিকিৎসা নিয়ে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভাস্কুলার সার্জন, আইসিইউ ও অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেদিনই শিশুটিকে ঢাকায় নিনসে পাঠানো হয়। আপাতত দেশেই তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সীমান্তে আতঙ্ক, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন
এদিকে মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি ও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। গতকাল সকালে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা ও স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত মোহাম্মদ হানিফের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম।
ইউএনও জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুজাইফার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদ হানিফের পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও দুই পরিবারকে আরও ৩০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় শিশু হুজাইফা। পরদিন একই ইউনিয়নের শাহাজাহান দ্বীপ এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারান।



