২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

জাপানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা উঠল ২০তম এশিয়ান গেমসের

IMG_4991

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাপানের নাগোয়া শহরের পালোমা মিজু স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানের সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে আসরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসরে এবারও তুলে ধরা হয়েছে ঐক্যের বার্তা।

শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রির পাশে আসন নেন জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী। প্রায় দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে জাপানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। তবে ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের বেশ কিছু আসন ফাঁকা ছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চ পাস্ট। নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদল স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। বিভিন্ন সময়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী জাপানি সাবেক অ্যাথলেটরা এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের (ওসিএ) পতাকা বহন করেন। গেমসের মশালও বহন করেন সাবেক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলেটরা।

ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে আফগানিস্তান ও বাহরাইনের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে মার্চ পাস্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার প্রিয়া। এবারের আসরের ৪৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে ২২টিতে। অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা মিলিয়ে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টে রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন।

নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে আয়োজিত এবারের আসরে ৪০টিরও বেশি খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এশিয়ার সেরা অ্যাথলেটরা। সাতটি খেলায় ২০২৮ অলিম্পিকে জায়গা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশ্বখ্যাত তারকার পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন উদীয়মান প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা।

তবে গেমস শুরুর আগে আয়োজকদের নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও প্রায় ৬ হাজার কর্মকর্তার আবাসন ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চাপ তৈরি হয়। এর মধ্যে গত সপ্তাহের রেকর্ড বৃষ্টিতে নাগোয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব জাপানের দিকে এগিয়ে আসা একটি টাইফুনও আগামী কয়েক দিনে আয়োজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisements

উদ্বোধনের আগে ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি বলেন, এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এশিয়ার ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

২০২৩ সালে কোভিড-পরবর্তী বিলম্বের পর অনুষ্ঠিত হাংঝু এশিয়ান গেমসে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল চীন। এবারও পদক তালিকায় শক্ত অবস্থান ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দেশটি।

অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো অলিম্পিকের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের পাশাপাশি এবারের আসরে থাকছে সেপাক টাকরো, কাবাডি, ই-স্পোর্টস, ব্রেকড্যান্সিং ও বিএমএক্স সাইক্লিং। প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে প্যাডেল ও এমএমএ।

আগামী ৪ অক্টোবর শেষ হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানে এটি তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমস আয়োজন। এর আগে ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই আসর। বাস্কেটবল, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলার প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। রোববার সকালে পুরুষদের ব্যক্তিগত ট্রায়াথলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পদকের আনুষ্ঠানিক লড়াই।

Advertisements