বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

মুক্তির কবিতা

মুক্তির কবিতা

১৬ই ডিসেম্বর
লিপি তালুকদার

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১
বাঙালি জাতি ঠাঁই পেয়েছে
বিশ্বমানচিত্রে, একটি নিজস্ব
পতাকা হয়েছে আমাদের।
এই বিজয় কেবল ভাষাকে মুক্তি দেয়নি
মুক্তি দিয়েছে শোষক, শাসন, শোষণকেও।

১৬ই ডিসেম্বর মুক্তির দিন,আনন্দ নিয়ে
বলার দিন,আমরা আছি স্বাধীন দেশে।
আমরা আছি এমন দেশে, যে দেশে
প্রতিটি ঘরে, মাঠে -প্রান্তরে,যেদিকে দুচোখ যায়
শুধু সবুজের বুকে লাল বৃত্ত দেখতে পাই।

এদেশ আমার ও কোটি মানুষের অহংকার
বিজয় দিবস, স্বজন হারানোর বেদনা লুকিয়ে রেখে
শেখায় নতুন করে বাঁচবার।

১৬ই ডিসেম্বর মানে নতুন বাংলাদেশ
নতুন আশা,স্বপ্ন আর বুকের ভেতর
উচ্চারিত সুর,
আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালোবাসি।

বিলবোর্ড
শিউলী খান

সপ্তবর্ণী আকাশ ছুঁয়ে এসেছিলো স্বাধীনতা
তরুণ্যের তাজা রক্তের সৃষ্টি বিজয়ের সারগাম
পাকসেনার লোলুপতা যুবতীর দেহের ভাঁজে
জীবন্ত দেহে পোড়া গন্ধে এসেছিলো স্বাধীনতা।

মানচিত্রে স্বাধীনতা! স্বাধীনতা মানচিত্রে!
ওতপ্রোতভাবে অহংকার-প্রেম মিশ্রিত অনুভব
মায়ের স্তন যুগল শিশুর পরম আশ্রয়
বাকবন্দী নিঃশ্বাস যেন স্বাধীনতার ব্যতয়।

স্বাধীনতার মুক্ত বাতাস মুক্তিকামীর নিঃশ্বাস
কোথায় স্বাধীনতা!বিদ্রুপ হাসি স্বাধীনতার
বার বার চপট আঘাত স্বার্থান্বেষী মহলের
গায়ে অঙ্কিত অদৃশ্য শেকল দেশ মাতার।

সত্য – মিথ্যা ক্ষমতাসীনের দখলেই বরাবর
বিশেষ দিনের অজুহাতে সংঘটিত স্মরণ সভা
দিনটি আরো রঙ্গমঞ্চ হয়ে ওঠে মেকিত্ব শ্রদ্ধার
অথচ আজও অবহেলিত একাত্তরের বীরাঙ্গনা।

প্রকৃত অর্থে আজও পরাধীন এ বাংলা
কেউ ভোগে কারো দখলে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা
রক্তের স্বাধীনতার হয়নি মান শ্রদ্ধার স্বাক্ষরে
স্বার্থান্বেষীর বুক পকেটে বন্দী সবুজ বাংলা।

শহীদ-বুদ্ধিজীবি- দেশপ্রেমীরা আজ কেবল পোস্টার
স্বাধীনতা আজও কেবল অঙ্কিত এক বিলবোর্ড।

একটি সত্য ভাষণের গল্প
জেসমিন জাহান

সবেমাত্র একটি প্রচ্ছদ আঁকা হয়েছে
নিপুণ কারিগরের সুদক্ষ আঙ্গুলের
স্পর্শে জীবন্ত হয়ে উঠছে ক্রমাগত
সবুজ কাদামাটির কোমল শরীর
রক্ত-রঙ আঁচড়ে আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত
জ্বলজ্বলে সূর্যের মতো।

একটি নাম লেখা হবে সেখানে
বুকের গভীরতম ভালোবাসা উজার করে
লেখা হবে- একটি সত্য ভাষণের গল্প
সবুজের বুকে টকটকে লাল।

দৃপ্ত হুঙ্কারে দামামা উঠেছে বেজে
প্রতি প্রাণ উন্মুখ আজ আত্মপ্রত্যয়ে
স্বাধীনতা কোটি প্রাণ বলিদানে ঋদ্ধ
কাদামাটি মাখা মায়াবী বুক
ধারণ করবে লাখো মানুষের হৃদপিণ্ড।

মহাকাব্যিক এক গ্রন্থ উন্মোচিত হবে
প্রতি পৃষ্ঠায় পরম মমতায় লেখা থাকবে
চরমতম সময়ের ধারাবিবরণী
এক অস্থির সময়ের ফ্রেম বন্দি গল্প।