বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
পাঠক কর্নার

বাউন্ডুলে সংসার

বাউন্ডুলে সংসার

সবারতো টিপটপ,গোছানো সংসার হয়
আমাদের হবে বাউন্ডুলে সংসার।

সে সংসারে তুমি হবে বাউন্ডুলে কর্তা
আমি হবো তোমার বাউন্ডুলে গিন্নী
সবাইতো মধুচন্দ্রিমাতে কক্সবাজার, বালি যায়
আমরা বাউন্ডুলে টুনোটুনি মধুচন্দ্রিমাতে পাহাড়ে যাবো।
সেদিন পূর্ণিমা থাকবে,
আমি লাল একটা জামদানী শাড়ী পড়বো,
হাতে থাকবে লাল কাঁচের চুড়ি, কপালে থাকবে তোমার চুমু।
আমার চুড়ির রিনিঝিনি শব্দে তুমি মাতাল হবে
আমি মাতাল হবো তোমার বুকের ঘ্রাণে
দুজন মাতাল সেদিন সেই পাহাড়ে পূর্ণিমা দেখবো।

সবার সংসারের সকাল যেখানে শুরু হয় হিসেব নিকেশে
আমাদের বাউন্ডুলে সংসারের সকাল শুরু হবে খুব ভোরে।
আমরা দুজন রোমান্টিক চায়ে চুমুক দিতে দিতে
সূর্যের জেগে উঠা দেখবো।

আমাদের সংসার হবে বেহিসাবি, সে সংসারের জাতীয় খাবার হবে খিচুড়ি আর ডিম ভাজি।
বেহিসাবি সংসারের খুচরো পয়সা জমিয়ে
যখন অনেক টাকা হবে সেদিন আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যাবো।

তুমি হলুদ পাঞ্জাবি আর আমি হলুদ শাড়ি পড়ে
মাঝে মাঝে আমরা হিমু যুগল হবো।
সেদিন আমরা এই শহরে যত আছে কৃষ্ণচূড়া গাছ
তাদের খোঁজে যাবো।

যেদিন আমার মনছুটি সেদিন আমি
খাবোনা, তোমার সাথে সারাদিনে একটা কথাও বলবোনা, এমনকি তোমার জন্য রাঁধব না।
মন ছুটির দিনে আমি এলোমেলো কেশে
আলুথালু বেশে,আলতা রাঙা পা দুলিয়ে
“শেষের কবিতা’তে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবো।
তুমি অফিস থেকে ফিরে যা কিছু একটা রেঁধে
আমাকে খাইয়ে দিবে।

আমরা দুজন গ্রীষ্মে খরতাপে রৌদ্রস্নান করবো
বর্ষাতে বৃষ্টিস্নান, শরৎ এর নীল আকাশের সাদা মেঘের সাথে ভেসে বেড়াবো।
হেমন্তে পাকাধানের ঘ্রাণ কুড়োবো, শীতে কোন নিরালা রাস্তায় শিশিরে পা ধোয়াবো,বসন্তে রঙিন হয়ে আবার দুজন দুজনার প্রেমে পড়বো।

এই ছোট পৃথিবীতে,
আমাদের প্রেমে পড়া দীর্ঘ হবে,আমাদের মুগ্ধতা দীর্ঘ হবে, আমাদের ক্ষমা করা অসীম হবে, আমাদের একে অপরের মাঝে ডুবে থাকা দীর্ঘ হবে।

আমরা হবো অগোছালো, অশান্ত, অস্থির কর্তা-গিন্নী।
সবাইতো একে অপরের জন্য সৃষ্টি হয়
আমরা একে অপরের পাগল হবো।
এই বাউন্ডুলে, অগোছালো আমি
তুমি বাউন্ডুলের অপেক্ষায়।