বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
বিনোদন

জেন-জিদের ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘ড্রেনের প্রজন্ম’ বললেন কঙ্গনা

kangana

ভারতের জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কড়া ও বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী এবং বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা তার একাধিক মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলন ঘিরে শিক্ষার্থীদের স্লোগান, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকের মতে, এসব পোস্ট ও স্লোগানে যেমন সৃজনশীলতা এবং ব্যঙ্গাত্মক রসবোধের প্রকাশ ঘটেছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহারও দেখা গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের ভাষা ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বিভিন্ন রিল এবং পোস্টের তীব্র সমালোচনা করেন কঙ্গনা রানাওয়াত। তিনি সেগুলোকে ‘বমি আসার মতো’ বলে মন্তব্য করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, জীবনে এত কদর্যতা এবং রুচিহীনতা একসঙ্গে আগে কখনো দেখেননি। তার ভাষায়, জেন-জি আন্দোলনকারীদের তৈরি ভিডিও ও রিল দেখলেই তার বমি আসে। তারা যেভাবে কথা বলছে এবং যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে, তা তার কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পারিবারিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কঙ্গনা। এক পোস্টে তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, ‘এদের জন্ম দিচ্ছে কারা, আর বড়ই বা করছে কারা?’—যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

Advertisements

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের প্রতীকীভাবে ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ বলে উল্লেখ করার প্রসঙ্গ টেনে কঙ্গনা আরও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ভারত বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি এবং সৌন্দর্যের দেশ। অথচ আন্দোলনকারীরা নিজেদের তেলাপোকা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে এবং তাদের আচরণও সেই পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। তার দাবি, এসব ভিডিও ও পোস্ট দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এসব দেখে তিনি মানসিকভাবে বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি তিনি বলেন, এসব কনটেন্ট দেখার পর তার ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এর প্রয়োজন অনুভব হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার মন্তব্যকে ঘিরে। ‘হিন্দু নারী’ উল্লেখ করে কঙ্গনা দাবি করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণী পশ্চিমা জীবনধারার প্রভাবে এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যে তারা ভালো গৃহিণীও হতে পারবে না। তার মতে, তারা মাদক ও মদ্যপানকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং পরিবারের অর্থে দায়িত্বহীন জীবনযাপনকে গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরে।

পরবর্তী এক মন্তব্যে কঙ্গনা পুরো জেন-জি প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘ড্রেনের প্রজন্ম’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, এই প্রজন্মের সমাজের প্রতি কোনো ইতিবাচক অবদান নেই। তার ভাষায়, তারা পড়াশোনায়ও ভালো নয় এবং তাদের আচরণ ও রুচি সমাজের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করে না।

কঙ্গনার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কংগ্রেস নেতা ভাই জাগতাপ তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর যে বলপ্রয়োগ এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে কঙ্গনার কোনো অনুশোচনা আছে কি না।

জাগতাপ বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে এবং তাদের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা নিয়ে একজন নারী হয়েও কঙ্গনা কোনো সহমর্মিতা দেখাননি। তার মতে, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন মনোভাব অত্যন্ত হতাশাজনক।

এদিকে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম)-এর নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যদি কঙ্গনা সত্যিই এমন ভাষা ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তার মতে, দেশের নতুন প্রজন্মকে এভাবে অপমান করা কোনো জনপ্রতিনিধির শোভা পায় না।

ওয়ারিস পাঠান আরও বলেন, কঙ্গনার উচিত জেন-জি প্রজন্মের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী কি লক্ষ্য করছেন, তার দলের একজন সংসদ সদস্য দেশের তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন।

ছাত্র আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনা রানাওয়াতের বিতর্কিত মন্তব্য অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশলেরও তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। এবার তার নতুন মন্তব্য ঘিরে আবারও দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Advertisements
অভিনেত্রীআন্দোলনকঙ্গনাজেন-জিবিজেপি