ষাট বছরের সুরের সফর, রুনা লায়লার গানে গানে গল্প

গানে গানে এক বিস্ময়কর পথচলা, নন্দিত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার সংগীতজীবনের ছয় দশক পূর্ণ হয়েছে। ১৯৬৪ সালের ২৪ জুন, মাত্র ১২ বছর বয়সে উর্দু সিনেমা ‘জুগনু’-তে প্রথম প্লেব্যাক দিয়ে যাত্রা শুরু। গান ছিল ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি’, যেটি দিয়েই মুগ্ধ করেন শ্রোতাদের। এরপর থেকে শুরু এক অনবদ্য সংগীত-অধ্যায় যা আজও অব্যাহত।
এই দীর্ঘ সফরে রুনা লায়লা গেয়েছেন ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান। কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও অ্যালবামে। পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, গিনেস বুক রেকর্ডস-এ জায়গা করে নেওয়ার বিরল সম্মানও।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশপ্রেমের টানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। এখান থেকেই শুরু হয় সংগীত জীবনের নতুন অধ্যায়। ১৯৭৪ সালে বলিউডে প্লেব্যাক করে প্রথম বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে গড়েন আরেকটি ইতিহাস। এক দিনে ৩০টি গান রেকর্ড করে নাম লেখান গিনেস বুকেও।
ভিনাইল থেকে ইউটিউব—যেকোনো মাধ্যমেই তাঁর কণ্ঠের সুর ছুঁয়ে গেছে কোটি হৃদয়। কেবল গায়িকা নন, সুরকার হিসেবেও রেখেছেন সাফল্যের ছাপ। তাঁর সুরে গান গেয়েছেন ভারতীয় কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে থেকে শুরু করে হরিহরণ, আদনান সামি, রাহাত ফতেহ আলি খান পর্যন্ত।
এই অসামান্য সংগীতজীবনের ৬০ বছর পূর্তিতে মাছরাঙা টিভি আয়োজন করেছে বিশেষ ‘স্টার নাইট’। আজ রাত ৯টায় প্রচারিতব্য এই অনুষ্ঠানে রুনা লায়লাকে জানানো হবে ভিন্নধর্মী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
এই আয়োজনে থাকছে—
৬০টি গোলাপ দিয়ে বরণ
৬০টি প্রশ্নে আলাপচারিতা
কাটা হবে ৬০ সংখ্যাকে উপজীব্য করে বানানো কেক
আর শুভেচ্ছা জানাবেন দেশের জনপ্রিয় ১০ সংগীতশিল্পী: কনা, লিজা, লুইপা, কোনাল, ঝিলিক, সুকন্যা, সাব্বির, কিশোর, অপু ও ইউসুফ।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শিল্পীরাও পাঠিয়েছেন শুভেচ্ছাবার্তা।
রুনা লায়লা বলেন, ‘দেশে ফিরে মাছরাঙার এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। ষাট বছরের পথচলার এ উদযাপনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।’
অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা করেছেন রুম্মান রশীদ খান, প্রযোজনা করেছেন অজয় পোদ্দার এবং উপস্থাপনায় ছিলেন মৌসুমী মৌ।



