গৃহকোণে সাজসজ্জার জায়গাটি হোক নান্দনিক

নিজেকে পরিপাটি রাখতে হলে দরকার আরও একটি পরিপাটি স্থান। সেই স্থানের নামই হচ্ছে সাজসজ্জা জায়গা। ঘরের প্রতিটি জায়গা যেহেতু নান্দনিক করে তুলতে চাই, তাহলে এই বিশেষ জায়গাটি কেন বাদ যাবে। কারণ দিনের একটা বিশেষ সময় এই জায়গায় আমাদের সময় কাটে নিজেকে পরিপাটি করার জন্য নিজের সাথে সময় কাটানোর জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে সাজসজ্জার স্থান।
সাজসজ্জার স্থান বা ড্রেসিং টেবিল শুধুই কি সাজগোজের জায়গা? না, এটি হতে পারে আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশের এক চমৎকার মাধ্যম। একটু যত্ন আর সৃজনশীলতা দিয়ে ঘরের এই ছোট্ট জায়গাটিকেই আপনি রূপ দিতে পারেন এক টুকরো নান্দনিক স্বর্গে।
রঙের ছোঁয়া
ড্রেসিং টেবিলের পেছনের দেয়ালে হালকা গোলাপি, আকাশী, সফট ল্যাভেন্ডার, মিন্ট গ্রিন, লেমন বা প্যাস্টেল রঙ ব্যবহার করুন এইগুলো ঘরের আলোর প্রতিফলনে এক মোলায়েম সৌন্দর্য এনে দেয়। চাইলে ছোট একটি ওয়াল আর্ট বা ইনস্পিরেশনাল কোটসও ঝুলিয়ে দিতে পারেন বা মেকাপের নানান ধরনের ছবিও ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।

আলোর সৌন্দর্য
আলো এক ধরনের জাদু। যে জাদুতে সৌন্দর্য বেড়ে যায় দ্বিগুণ। আয়নার চারপাশে বাল্ব লাগিয়ে নিতে পারেন। মেকআপের জন্য অবশ্যই কার্যকর এবং দেখতে হবে প্রফেশনাল ও গ্ল্যামারাস। ছোট একটি ফেয়ারি লাইট বা মিনিমাল টেবিল ল্যাম্পও রাখতে পারেন।
আয়না হোক চোখ জুড়ানো
একটি সুন্দর ফ্রেমে বড় আয়না ড্রেসিং টেবিলের কেন্দ্রে রাখুন। আয়নার চারপাশে ছোট কিছু গাছগাছালি বা শুকনো ফুলের তোড়া রেখে দিন সৌন্দর্য বাড়াতে।
বসার জায়গাতেও থাকুক শৈল্পিকতা
ড্রেসিং টেবিলের চেয়ারে বা টুলে একটু অভিনবত্ব আনুন। সিম্পল কাঠের চেয়ারের বদলে বেছে নিতে পারেন ভেলভেট কুশন চেয়ার, বা ছোট একটি ওটোমান। চাইলে চেয়ারটিতে একটি নরম শাল বা কুশন রেখে দিতে পারেন। তবে জায়গা স্বল্পতা থাকলে বোহেমিয়ান টুলগুলো ব্যবহার করতে পারেন। আরাম ও রুচির ভারসাম্যে থাকবে।
গুছানো রাখুন
ছোট ছোট ট্রে, জুয়েলারি অর্গানাইজার, ব্রাশ হোল্ডার ব্যবহার করুন যাতে সবকিছু সহজে পাওয়া যায়। ট্রান্সপারেন্ট বা মার্বেল ডিজাইনের হোল্ডার এখন বেশ ট্রেন্ডি এবং আকর্ষণীয়।
সবুজের ছোঁয়া
সবুজ মানেই স্বস্তি। একটি ছোট মানিপ্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট বা ক্যাকটাস রাখুন টেবিলের একপাশে। প্রাণবন্ততা আসবে, সেই সঙ্গে বাড়বে মানসিক প্রশান্তি।
সুগন্ধ ও স্নিগ্ধতা
ড্রেসিং টেবিলে একটি সুগন্ধি মোমবাতি বা অ্যারোমা ডিফিউজার রাখলে পুরো ঘরেই ছড়িয়ে পড়বে প্রশান্তির সুবাস।
জুয়েলারি বক্স
জুয়েলারি গুছিয়ে রাখার জন্য একটি ট্রান্সপারেন্ট কাচের বক্স বা এক্রেলিক ড্রয়ার ব্যবহার করতে পারেন। ভেতরের গয়না দেখলেও শোভা বাড়বে যেন এক টুকরো প্রদর্শনী। একটা স্থানে কয়েকটি কাঠের জুয়েলারি বক্স সাজিয়ে রাখতে পারেন। জায়গাটি দেখতে বেশ দৃষ্টিনন্দন লাগবে।
স্কিনকেয়ার কর্নার
খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্নার। ড্রেসিং টেবিলের এক কোণে আপনার ডেইলি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট গুছিয়ে রাখুন সুন্দরভাবে। ট্রে বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করে সাজালে দেখতে হবে ঝরঝরে ও প্রফেশনাল। এছাড়াও প্রয়োজনে খুব কাছে থেকেই পাওয়া যাবে।
মেকআপ ব্রাশ হোল্ডার
মেকআপ ব্রাশ বা পেনসিল সাজিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করুন স্টাইলিশ কন্টেইনার হতে পারে মার্বেল ডিজাইন, কাঠের মগ বা এমনকি রিসাইক্লড কাচের জার।
ড্রেসিং টেবিলের নান্দনিকতা আসলে নির্ভর করে আপনার রুচি, ভালো লাগা আর যত্নের ওপর। প্রতিদিন যেখানে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন, সেই জায়গাটুকুই হয়ে উঠুক আপনার ব্যক্তিগত এক আশ্রয়। ঘরের প্রতিটি জায়গা যেন রুচিশীল এবং নান্দনিক থাকে। আর সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোন জুড়ি কোন কিছুতেই নেই। প্রতিটি জায়গাও নিজ দায়িত্বে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এই জায়গাটিতে নিজেকে গুছানোর জন্য একটা দীর্ঘ সময় থাকা লাগে।




