গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়ের ৫০ বছর পূর্তিতে ৭ দিনের নাট্যোৎসব

১৯৭৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কয়েকজন তরুণ নাট্যকর্মীর হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়ের। মুলত নাটকের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকাশ ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তাদের প্রথম পদক্ষেপ। আজ ৫০ বছর পার করেছে দলটি। অর্ধশতাব্দীর এ সাফল্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হচ্ছে সাত দিনব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী নাট্যোৎসব ‘গণায়ন নাট্য উৎসব’।
গণায়ন শুধু নাটক মঞ্চায়নেই থেমে থাকেনি। দীর্ঘ পথচলায় দলটি নাট্যশিক্ষা, কর্মশালা, গ্রামীণ নাট্যচর্চার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের গড়ে তোলার কাজেও ভূমিকা রেখেছে। তাদের প্রযোজনাগুলোতে যেমন বিশ্বনাট্যের অনুবাদ রয়েছে তেমনি রয়েছে লোককথা, ঐতিহাসিক উপাখ্যান এবং সমসাময়িক সমাজ বাস্তবতার প্রতিফলন।
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আগামী ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের স্লোগান– ‘সৃজনে গৌরবে অঙ্গীকারে শিল্পিত চেতনায় গণায়ন’।
নাট্যমঞ্চে উঠবে ইতিহাস, আত্মকথা, বিয়োগান্ত প্রেমকাহিনি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নাট্যসাহিত্যের ভাবানুবাদ থাকবে এবারের উৎসবকে ঘিরে। সব মিলিয়ে মোট ছয়টি প্রযোজনার মঞ্চায়ন হবে।
আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর থাকছে শক্তিশালী প্রযোজনা ‘জুলিয়াস সিজার’। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত এ নাটক রোম সাম্রাজ্যের সেনাপতি ও একনায়ক সিজারের উত্থান-পতনের গল্প। গণতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্রে রোমের রূপান্তর দর্শকের কাছে নতুন আলোচনার খোরাক হবে। আগামী ১২ অক্টোবর মঞ্চে আসবে নান্দীমুখ নাট্যদলের ‘আমার আমি’। বাংলা রঙ্গালয়ের কিংবদন্তি অভিনেত্রী বিনোদিনী দাসীর আলো-অন্ধকারময় জীবনের কাহিনি নাটকটির মূল উপজীব্য। আত্মজীবনীমূলক রচনাগুলোর ওপর ভিত্তি করে রচিত প্রযোজনাটি নির্দেশনা দিয়েছেন অসীম দাশ। ১৩ অক্টোবর থাকছে গণায়নের নিজস্ব প্রযোজনা ‘কমলা সুন্দরীর কিসসা’। নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি দিঘিকে ঘিরে বিয়োগান্ত এক উপাখ্যান। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন বাপ্পা চৌধুরী।
১৪ অক্টোবর মঞ্চে আসছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রযোজনা ‘তিনি আসছেন’। ইউজিন আয়োনেস্কোর ‘দ্য লিডার’ অবলম্বনে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মামুনুল হক। সমকালীন রাজনীতি ও জনমোহিনী নেতৃত্বের ব্যঙ্গাত্মক রূপ দর্শককে ভাবাবে।
১৫ অক্টোবর কথাসুন্দর নাট্যদল পরিবেশন করবে ‘বৃত্তের বাইরে’। সন্তোষ চক্রবর্তীর ‘ঠিকানা’ অবলম্বনে নির্মিত নাটকটি আধুনিক সমাজের সীমাবদ্ধতা ভাঙার আকাঙ্ক্ষার গল্প। এটি নির্দেশনা দিয়েছেন কুন্তল বড়ুয়া। ১৬ অক্টোবর উৎসবের শেষ হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ দিয়ে। ফেইম নাট্যদলের এই প্রযোজনার নির্দেশনায় আছেন তিলোত্তমা সেনগুপ্ত।
প্রতিটি প্রযোজনার পর আলোচনা চক্র ও মতবিনিময় পর্বের আয়োজন করা হবে যাতে তরুণরা নাটকের বিষয়ে অনুপ্রেরণাও নতুন ধারণা পেতে পারেন। অর্ধশতক পেরোনো এই নাট্যদল তাই আবারও প্রমাণ করছে নাটক শুধু বিনোদন নয় বরং এটি সামাজিক পরিবর্তন ও মানবিক চেতনার শক্তিশালী হাতিয়ার।



