১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বিনোদন

সিনেমা মুক্তি পায়, অথচ দর্শকের খবরই থাকে না!

received_1116656229367189_1

এক সময় ঢাকাই সিনেমার মুক্তি মানেই ছিল উৎসব। এখন অনেকটাই নিঃশব্দ আয়োজন। সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, কিন্তু দর্শক জানেই না! শুধু সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টার শেয়ার করে প্রচারণা শেষ—এটাই যেন হয়ে উঠেছে প্রচলিত রীতি। অথচ দর্শক হলমুখী করতে হলে প্রয়োজন ব্যাপক প্রচারণা। এই ঘাটতিই আজ চলচ্চিত্র শিল্পের দুর্দশার অন্যতম কারণ।

প্রচারে নেই, প্রসারে তো নয়ই

বাংলা প্রবাদ আছে, ‘প্রচারেই প্রসার’। ঢাকাই সিনেমার বর্তমান দুর্বল অবস্থার পেছনে এই প্রচারহীনতা বড় ভূমিকা রাখছে। একসময় সিনেমার মুক্তিকে ঘিরে শুরু হতো ধুমধাম প্রচার অভিযান। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার, শহরজুড়ে মাইকিং, রিকশা ও ট্রাকে পোস্টার—সব মিলিয়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো।আজ সেই জায়গায় জায়গা করে নিয়েছে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু স্টিল ছবি বা পোস্টার। প্রচার না হলে মানুষ জানবে কীভাবে, আর জানবে না বলেই সিনেমা দেখে না—এই চক্রই বারবার ঘুরে ফিরে আসছে।

পপির প্রত্যাবর্তনও প্রচারবিহীন!

সিনেমা ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে ছয় বছর পর বড় পর্দায় ফিরছেন চিত্রনায়িকা পপি। এটি নির্মাণ করেছেন সাদেক সিদ্দিকী। মুক্তির তারিখ ১৭ অক্টোবর ধার্য করা হলেও, এখনো পর্যন্ত কোথাও চোখে পড়ার মতো প্রচারণা হয়নি। এমনকি পপিকেও প্রচারণামূলক কোনো কার্যক্রমে দেখা যায়নি। এই উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে—এমন প্রত্যাবর্তন যদি প্রচার না পায়, তাহলে দর্শক কীভাবে জানবে?

প্রচারণার মাধ্যম ছোট হয়ে এসেছে

নব্বইয়ের দশকের সিনেমার প্রচারণা আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে। তখন রাস্তায় মাইকিং হতো, রিকশা-ট্রাকে পোস্টার লাগানো, ব্যান্ড পার্টি, পত্রিকা-টিভি-রেডিও সব মাধ্যমেই চলতো প্রচারণা।আজ প্রচারণা সংকুচিত হয়ে এসেছে শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু এ মাধ্যমের প্রভাব এখনো মফস্বলের সাধারণ দর্শকের কাছে খুব একটা পৌঁছায় না। ফলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক আগ্রহ হারাচ্ছে।

প্রেক্ষাগৃহগুলোতে লোকসান, হতাশ মালিকরা

প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের ভাষ্য মতে, দর্শক সিনেমা দেখতে আসেন যদি তাঁরা জানেন কী চলছে। বর্তমানে সেই তথ্যই দর্শক পাচ্ছে না।চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রদর্শক মিয়া আলাউদ্দীন বলেন— “আগে সিনেমা সফল করতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করা হতো। এখন সেই প্রচারণায় ব্যাপক দৈন্য দেখা যায়।”প্রচারহীনতা এখন প্রেক্ষাগৃহের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাধানের পথ কোথায়?

বর্তমান সময়ে যখন ডিজিটাল মাধ্যম সহজলভ্য, তখন বরং বহুমাত্রিক প্রচারণার প্রয়োজন আরও বেশি। শুধুমাত্র ফেসবুক বা ইউটিউবের কিছু পোস্ট দিয়ে দর্শক আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে ঢাকার বাইরের জনসাধারণকে।সিনেমা নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার বাজেটবাঁধা, পরিকল্পিত এবং সৃজনশীল প্রচারণা। তা না হলে সিনেমা মুক্তির খবর রয়ে যাবে কেবল সংবাদপত্রের পাতায়, প্রেক্ষাগৃহে নয়।

Advertisements