বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

পূজা-পার্বণের কেশসজ্জা

Picsart_25-09-29_02-05-14-779

পুজোতে নিজেকে সাজানোর কথা ভাবলে পোশাক-আশাক ছাড়াও মেকআপ, গহনা,  অন্য অনুষঙ্গ ছাড়াও সৌন্দর্যের অন্যতম বিষয়টি হচ্ছে চুল বা কেশ। সাজসজ্জা অর্ধেক অংশই নির্ভর করবে কেশের উপর। কেশ একজন নারীর সৌন্দর্যতা ও মাধুর্যতা দুটোই বৃদ্ধি করে। 

কুঁচ-বরন কন্যা রে তার মেঘ-বরন চুল— রূপের মোহ বাড়িয়ে তুলতে এক ঢাল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের অবদান যে ঠিক কতটা তার ঝলক পাওয়া যায় কবির কবিতাতেই।

 একই সঙ্গে আবার এ-ও অস্বীকার করা যায় না যে সেই পারদর্শীতার জাদু আরও খানিকটা বাড়িয়ে তোলার দায়িত্ব অতি-অবশ্যই এসে বর্তায় কেশসজ্জার উপরে। 

কিন্তু সেই কেশসজ্জা বা হেয়ারস্টাইলের পরিসরে অন্যান্য ঋতুর ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অবকাশ থাকে। তবে পরিবেশ প্রকৃতির  প্রসঙ্গ উঠলেই তা যেন বাতাসে মিলিয়ে যায়! তবে শরতের আকাশে গরমের তাপদাহের মধ্যে আরামের সঙ্গে কোনও রকম আপস করবে না। তবে বাড়িয়ে তুলবে সৌন্দর্য্যের উষ্ণতা।

তাই সাধারণের চেয়ে একটু ভিন্ন যা পূজোয় কেশসজ্জায় সাবেকিয়ানা ভাব এনে দেয়- 

ইজ়ি ইন-কার্লস: 

গরমে ঘাড়ের কাছে চুল এসে পড়লে অস্বস্তি বাড়বেই। তা এড়াতে তাই অনেকেই এ সময়ে চুল ছোট করে ফেলেন।  এই ধরনের হেয়ারকাটের ক্ষেত্রে চুল বাঁধার অবকাশ খুব একটা থাকে না। তাই তাঁর চুল স্ট্রেটেন করিয়ে কার্লারের সাহায্যে ভিতরের দিকে কার্লস করিয়ে নিতে হবে। পরিচিত ভাষায় যাকে বলে ‘ইন-কার্লস’। সঙ্গে মেকআপ রেখেছেন একেবারেই হাল্কা। নুড শেডের লিপস্টিক এবং চোখে সরু করে আইলাইনার। এই ধরনের হেয়ারস্টাইল যে কোনও পোশাকের সঙ্গেই মানানসই। ওয়েস্টার্ন আউটফিটের সঙ্গেও যেমন ভাল লাগবে আবার শাড়ির ক্ষেত্রেও এনে দেবে বেশ অন্য রকম একটা লুক। 

রেট্রো স্টাইল মেসি হেয়ারডু: 

সাদা-কালো চলচ্চিত্রের সময়ে এই ধরনের হেয়ারস্টাইলের বেশ চল ছিল। বর্তমানেও বেশ রমরমা সাধনা-নূতনের মতো অভিনেত্রীদের যুগের এই হেয়ারস্টাইলটির।  যদি চুলের সামনের অংশে ‘ফ্রিঞ্জ’ কাটা থাকে তা হলে এই হেয়ারস্টাইলটি মানানসই হবে।  প্রথমে সামনের ফ্রিঞ্জেসগুলোকে আচঁড়ে সামনের দিকে করে নিয়েছি। এর পর মাথার উপরের দিকের (ক্রাউন এরিয়া) চুলের থেকে কিছুটা অংশ নিয়ে ‘ব্যাক কোম্ব’ করি। মানে চুলগুলো উপরের দিকে ধরে নীচের দিকে আঁচরাতে থাকি। এতে চুলে নিজে থেকেই বেশ ফুলো-ফুলো একটা ভাব তৈরি হয়। হাল্কা পাফি একটা লুক আসে। শেষে ক্লিপ দিয়ে চুলগুলো মাথার পিছনে আটকানো হয়েছে। তার পর ক্রাউন এরিয়ায় আঙুল দিয়ে সামান্য আঁচড়ানো হয়েছে যাতে মেসি একটা লুক আসে। আর নীচের অংশের বাকি চুল দিয়ে আলুথালু ভাবে একটি খোঁপা করে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র।  এই হেয়ারস্টাইলটি ক্যাজ়ুয়াল পোশাকের সঙ্গে খুব একটা মানাবে না হয়তো। বরং শাড়ি বা ইভনিং গাউনের সঙ্গে দারুণ সঙ্গত দেবে। বিশেষত অফিস পার্টি ধাঁচের কোনও অনুষ্ঠানের জন্য চোখ বন্ধ করে বেছে নেওয়া যায় এই কেশসজ্জাটি।

ব্রেইডেড হাফ-আপডু: 

গরমেও খোলা চুল রাখতে চান, কিন্তু একঘেয়ে লুক আর ঘাড়ের অস্বস্তি এড়াতে খুঁজছেন একটু ভিন্ন কিছুর? তাহলে ‘ব্রেইডেড হাফ-আপডু’ হতে পারে পারফেক্ট চয়েস।

মাথার সামনের দু’পাশ থেকে হালকা করে দুটি সেকশন নিন। প্রতিটি সেকশন দিয়ে পাতলা তিনটি স্ট্র্যান্ডে ছোট ছোট ব্রেইড তৈরি করুন। এবার দুই দিকের ব্রেইডটিকে মাথার পেছনে নিয়ে গিয়ে ছোট ক্লিপ বা হেয়ারপিন দিয়ে আলতোভাবে আটকে দিন। চাইলে ব্রেইডের শেষে ছোট এক্সেসরিজ বা বিডও ব্যবহার করতে পারেন। বাকি চুল খোলা রাখুন চাইলে হালকা কার্লস এনে দিতে পারেন আরও টেক্সচার ও ভলিউমের জন্য। এই হেয়ারস্টাইলটি ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন—দু’ধরনের পোশাকের সঙ্গেই অসাধারণ যায়। ইথনিক কুর্তি বা ইন্ডো-ওয়েস্টার্ন গাউনেও মানাবে দারুণ।

লো বান উইথ সাইড পার্টিং: 

যাঁরা সিম্পল ও স্লিক হেয়ারস্টাইল পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। বিশেষ করে যদি আপনি কোনও ফর্মাল ইভেন্টে বা পূজোর পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। চুলে আগে ভালো করে সিরাম বা লিভ-ইন কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন যাতে চুল থাকে ফ্রিজ-ফ্রি। এরপর একটি সাইড পার্টিং করে মাথার পিছনে চুল জড়ো করে লো বান তৈরি করুন। বানের আশপাশে হেয়ারপিন দিয়ে সেট করুন এবং একটুখানি হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে ফিনিশিং দিন। চাইলে পরতে পারেন সিল্ক স্কার্ফ বা ফ্লোরাল হেয়ার অ্যাকসেসরিজ। এই হেয়ারস্টাইলটি গরমে ঘামে ভেজা ঘাড়ের সমস্যা দূর করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভালোভাবে টিকে থাকে।

পাফ-পনিটেল: 

যাঁদের চুলের দৈর্ঘ্য শোল্ডার বা মিডলেংথ পর্যন্ত তাঁদের জন্য এই হেয়ারস্টাইলটি একেবারে উপযুক্ত। এই হেয়ারস্টাইলের ক্ষেত্রে প্রথমে পুরো চুলটাকেই স্ট্রেটেন করে নেওয়া হয়েছে। তার পর করা হয়েছে ব্যাক কোম্বিং। আগের হেয়ারস্টাইলটির ক্ষেত্রে যেমন মাথার উপরের চুলটি আংশিক ভাবে ব্যাক কোম্বিং করা হয়েছিল, এখন কিন্তু তেমনটা নয়। এ বার আমরা মাথার উপরের পুরো চুলটাই ব্যাক কোম্ব করে নেব। এর পরে হেয়ারস্প্রে দিয়ে চুল সেট করে নিয়ে হাল্কা একটু পাফ করে মাথার পিছনের অংশে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিয়েছি। তবে সাদামাটা ক্লিপের বদলে কোনও হেয়ার অ্যাকসেসরিজ়ও ব্যবহার করা যেতে পারে। তাতে আরও ট্রেন্ডি একটা লুক আসবে।  কিন্তু ডিম্বাকৃতি মুখ হলে বা গাল যদি খানিকটা ফোলা হয় তা হলে কিন্তু হাই-পাফ করাই শ্রেয়।’’। এই ধরনের যে কোনও ওয়েস্টার্ন বা পার্টি আউটফিটের সঙ্গে এই হেয়ারস্টাইলটি খুব মানানসই  তবে কেউ চাইলে এথনিক পোশাকের সঙ্গেও এক্সপেরিমেন্টাল ভাবে এই হেয়ারস্টাইলটি করে দেখতেই পারেন।

পুজো মানেই তো আত্ম-অন্বেষণ, নিজেকে নতুন করে পাওয়ার সময়। আর কেশ বাঁধনে যদি মিশে থাকে আভিজাত্য, ঐতিহ্য আর আধুনিকতা তবে আপনি তো নিজেই এই কাহিনির মা দুর্গা। এবার বাঁধুন কেশ, গড়ে তুলুন আত্মবিশ্বাস।