মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে!

আজ ক’দিন হলো মাকে খুব বেশি মনে পড়ছে! মা কল দেয় না কি মিস কল দেয় বুঝতে পারছি না। আমি কল দিলে মা রিসিভ করতে পারে না আবার মা কল দিলে আমি কল রিসিভ করতে পারছিনা এভাবেই চলছে ২/ ৩ দিন ধরে।
গতকাল ছোট ভাইয়ের বউ ( আমাদের বাড়ীর বড়বউ বড়রাণী আমরা সকলে তাকে ডাকি) কল দিলে খুশিতে লাফিয়ে উঠলাম মনে মনে ভাবলাম এই তোমাকে পেয়েছি। কিন্তু না তা নয়। পরে বলছি-
আমার মা একটু অভিমানী। ভেতরটা খুব নরম তবে খুব বুদ্ধিমতি। আমাদের ছয় ভাই-বোনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন শুধু মাত্র তার বুদ্ধিমত্তা, কড়া শাসন অপরদিকে অফুরন্ত স্নেহ তো আছেই তাই দিয়ে। মাকে আমরা সকলেই এখনও ভীষণ ভয় পাই।
এমন কোন পরিবেশ পরিস্থিতি নেই তিনি বুঝতে পারেননা। তার নিজের সম্মান ও আমার বাবার সম্মানে তিনি সকলের প্রিয় ও সস্মানিত মানুষ।
মনে পড়ছে মা ‘র কড়া শাসনের কথা। আমাদের এমন কোন সাহস ছিল না যে মার বিনা হুকুমে কোন বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে যাওয়া,কারো ঘরে খাবার খাওয়া এমনকি মার অনুমতি ছাড়া নতুন জামা পরা ।কোথাও বেড়াতে গেলে মা নির্ধারণ করে দিত কি পড়ব কিভাবে চলব ইত্যাদি ইত্যাদি। এর একটুও ব্যতয় ঘটালে আমাদের খবর হয়ে যেত। আর আমরা তা করতামও না। আমার সন্তানেরাও ঠিক এমনটি হয়েছে। (ওরা জানে ওর মা পৃথিবীর সবচেয়ে রাগী মানুষ)।
আগের কথায় আসি। আমাদের বাড়ীত বউ এখন দুজন।ওরা আমার এক প্রকার মেডিসিন। আমিও ওদের জন্য তাই। ওরা কল দিলে চলে যায় ঘন্টা খানেক। ওদের মিষ্টি মিষ্টি কথা দিয়ে শুরু তারপর কে কাকে গরু,খাসি, হাঁস, মুরগী কতদিন হলো খাওয়াচ্ছেনা, এর মধ্যে আবার কোন দল বেশি খেল, কোন হিসেব বাদ নেই বাঁশের ওপর বাঁশ, রনক্ষেত্র তৈরি তারপর গ্রুপ কলে সৈন্য সামন্ত সব হাজির বাকিটুকু ইতিহাস…
কথা শেষ মাকে চাইলাম –
মা বড়বউকে বলে দিচ্ছে ওকে বলে দাও –
ওতো শুধু বলে মা ভালো আছেন? আমি ভালো আছি এটা আর কত শুনব?
আমি কথা বলবনা। আমি হাসতে হাসতে বললাম তোমার শাশুড়ীতো এবার আমাকে মানকের চিপায় ফেলাইসে আমি তো শেষ বড়বউ আর আমি হাসতে শেষ কারণ – কারনা আমি জানি। বড়বউ বদমায়েশটা বলছে যাক মা এবার একটা কামের কাম করছে। আমি বললাম লেগে দিয়ে বসে আছো তাই না? এবার নিজে বাঁচার জন্য বলছে আমি কিছু জানিনা আপনাদের মা মেয়ের ব্যাপার। আমরা তো শুধু নামের বউ এ বাড়ির…
আমি ধমক দিয়ে বললাম মাকে দাও বলল মা আবার ওদিকে ছোট বউয়ের সাথে কথা বলছে। আমি বুঝতে পেরে বললাম ওরে বদমায়েশের দলেরা আমার বিরুদ্ধে নামজারী
যাইহোক মায়ের কথা এই জার্নিতে খুব মনে পড়ছে! কারণ মাএখন বগুড়ায় আমার বড় ভাইয়ের বাসায় আছে। বগুড়ার ওপর দিয়ে আসার সময় কথা গুলো বেশি মনে পড়ছে!মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত তাই তাকে কোন কিছু বলার, অভিযোগ,অবহেলা করার কোন সুযোগ ইসলামে নেই। তাকে ভালোবাসতেই হবে, আদর যত্নের কোন কমতি করা যাবেনা, তার কথা মতো বাকি পথ পাড়ি দিতে হবে। আমিও এখন মা হয়েছি মা হবার সব কষ্ট বুঝতে পারি মা তো শুধুই মা
সবশেষে বড় বউকে বলে দিয়েছি আচ্ছা মাকে সালাম দিও আর বলো আমি শুক্রবারে সন্ধ্যার পরে অনেক ক্ষন কথা বলব।।
সুদীর্ঘ জীবি হোক,সস্মানেরন সাথে বেঁচে থাকুক, ভালো থাকুক, আমার মা সহ পৃথিবীর সকল মায়েরা।



