এই শারদে হয়ে উঠুন সর্বাঙ্গ সুন্দর

পূজা আসলে পোশাক আশাকে কেনা, অন্যান্য অনুসন্ধ কেনা, নিজেকে সাজানো, ঘরকে সাজানো, ভালো খাওয়া দাওয়া শরীরচর্চা নিজেকে ভালো রাখার পাশাপাশি রূপচর্চা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রোজকার যত্ন জারি রাখলে যদিও বিশেষ দিনে আলাদা আর কোনও যত্ন না নিলেও হয়, তবে ত্বক যদি এই সুযোগে বাড়তি যত্ন পায়, তাহলে মন্দ কী!
এই প্রসঙ্গে আর-একটা কথাও বলে রাখা ভাল। অনেকেই ভাবেন, যেদিন দরকার, সেদিন যত্ন নিলেই বোধহয় দারুণ ফল পাবেন। রোজ যত্ন নিলে ত্বক বা চুল এমনিই ভাল থাকে। ফলে বাড়তি যত্ন পেলে উপকারও বেশি পাওয়া যায়।
কিন্তু যারা একেবারেই ত্বকের যত্ন নেন না, তাদের ত্বক যেহেতু অভ্যস্ত নয়, তাই একদিনে অতিরিক্ত যত্ন নিলে র্যাশ, লালচেভাব, এমনকী অ্যাকনেও হতে পারে।
তাই রোজকার যত্নের পাশাপাশি শারদ এর বিশেষ যত্ন নিলে ত্বকে দেখা যাবে বাড়তি গ্লো-
তাই রোজ অল্প করে হলেও যত্ন নেওয়ার অভ্যেস পুরোপুরি ছাড়বেন না। সাধারণত যেভাবে যত্ন নেন, বিশেষ দিনে সেটাই একটু-আধটু বদলে নিন। যেমন প্রতিদিন হয়তো শুধু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন। বিশেষ দিনে তার আগে বা পরে মুখে খানিকটা আলুর রস লাগালেন। বা তুলোয় করে দুধ নিয়ে পুরো মুখটা মুছে নিলেন। সাধারণ স্নানের জলের পরিবর্তে কয়েক ফোঁটা সুগন্ধী এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে স্নান করলেন। ত্বকেও লাবণ্য আসবে, আর সুগন্ধে শরীর-মনের ক্লান্তিও দূর হবে। যেহেতু প্রতিদিন বেসিক একটা রুটিন থাকছেই, তাই বিশেষ দিনে এই ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো করলেই কিন্তু অনেকটা পার্থক্য হবে।

চুলের যত্ন
• বিশেষ দিনের আগের রাতে শুতে যাওয়ার আগে চুলে হট অয়েল মাসাজ করে শুতে যান। যাদের তৈলাক্ত চুল, তাদের চুল পরদিন একদম পারফেক্ট কন্ডিশনে থাকবে। তবে যদি চুল শুষ্ক প্রকৃতির হয়, তাহলে তেল মাসাজ এবং শ্যাম্পু করার কাজটা আগের দিনই সেরে রাখুন।
• চুল যদি স্বাভাবিক প্রকৃতর হয়, তাহলে আগেরদিন অয়েল মাসাজ না করলেও হবে। স্নান করার ঘণ্টাখানেক আগে কোনও হেয়ার প্যাক লাগান। তারপর শ্যাম্পু করে নিন।
• দিনদুয়েক আগে চুলের আগা ট্রিম করে নিন। এতে চুল এমনিই বেশি স্বাস্থ্যকর দেখাবে। চুলে ইন্সট্যান্ট ভলিউম আনবে, এমন প্রডাক্ট বা উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন। ভিনিগার বা বিয়ার দিয়ে চুল ধুতে পারেন।
ত্বকের যত্ন
•উৎসবের কয়েকদিন আগে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকে একটা ফেসিয়াল করান।
• ফেশিয়াল হেয়ার রিমুভ করুন একদিন আগে। কারণ অনেকেরই হেয়ার রিমুভ্যালের পর ত্বকে লালচেভাব বা র্যাশ দেখা দেয়। আগের দিন হেয়ার রিমুভ করলে ত্বক অনেকটা সময় পাবে ঠান্ডা হওয়ার।
• স্ক্রাবিং দিনের দিন করাই ভাল। অতিরিক্ত প্রেশার দিয়ে স্ক্রাব করবেন না। এতেও ত্বকে সমস্যা হতে পারে।
• ত্বকে ইন্সট্যান্ট গ্লো আনতে বা চটজলদি ট্যান দূর করতে বেসন ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে মুখে আধঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিন। অ্যালোভেরা ও মধু মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে পারেন।
• গ্রিন টি ব্যাগ ডিপ ফ্রিজে জমিয়ে তা চোখের তলায় রাখতে পারেন, যদি আইব্যাগের সমস্যা থাকে।
• স্নান করার পর বা মুখ ধোওয়ার পর হাইড্রেটিং মিস্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক আর্দ্র থাকবে। মিস্ট শুকিয়ে গেলে সিরাম ও এসেন্স লাগান। তারপর লাগান ময়শ্চারাইজ়ার।
• শেষে অবশ্যই লিপবাম লাগান। লিপস্টিক লাগানোর আগে অবধি ঠোঁটে লিপবাম লাগিয়ে রাখতে পারেন। ঠোঁট ফাটা থাকলেও নরম হয়ে আসবে।
পায়ের যত্ন
•একটা বালতিতে হালকা গরম পানি নিন। তাতে ১ চা চামচ লবণ, অল্প একটু বেকিং সোডা ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিন। চাইলে এসেনশিয়াল অয়েল (যেমন: ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট) মেশাতে পারেন। পা ১৫-২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে পায়ের ক্লান্তি দূর হয় এবং ত্বক নরম হয়।
•পরিষ্কার ও শুকনো পায়ে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার, গ্লিসারিন বা নারকেল তেল ব্যবহার করুন।

অন্যান্য বিষয়
• সুগন্ধী লাগাতেও ভুলবেন না। শরীরের যে অংশে তাপ উৎপন্ন হয় বা যে অংশে বেশি ঘাম হয়, যেমন কানের নীচে, হাতের ভাঁজে, গলায়, ঘাড়ে, পিঠে, হাঁটুর পিছনে রোল-অন লাগান। আন্ডারআর্মে ডিও ব্যবহার করুন। পারফিউম কিন্তু সরাসরি শরীরে ব্যবহার করবেন না।
• স্নানের সময় ভালমতো বডি স্ক্রাবিং করুন। লুফা আর শাওয়ার জেল দিয়েও করতে পারেন, আবার কফি, ওটমিল বা সি-সল্টও ব্যবহার করতে পারেন। সার্কুলার মোশনে কাঁধ, পিঠ, থাই, পায়ের পাতা ইত্যাদি ভাল করে মাসাজ করুন।
• এছাড়াও মেকআপ করার পরে প্রতিদিন সঠিক উপায়ে মেকাপ তুলে, ত্বক ভালো মতো পরিষ্কার করে ত্বকে ক্রিম লাগিয়ে ঘুমাতে যাবেন।
তবে বিশেষ দিনে কোনও ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করতে যাবেন না। নতুন উপকরণ বা নতুন প্রডাক্ট ব্যবহার করলে হিতে-বিপরীত হতে পারে। তখন হাতে সময়ও পাবেন না তা ঠিক করার। তাই আগে ব্যবহার করেছেন এমন কিছু বা কোনও ক্ষতি হবে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে তারপরই নতুন কিছু ব্যবহার করুন।
সুন্দর সাজ-পোশাক, নিজেকে সুন্দর রাখা, সৌন্দর্যচর্চার পাশাপাশি এই দুর্গাপূজাও যাতে সুন্দর কাটে সকলের উদ্দেশ্যে এই শুভকামনা।



