বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

টয়লেটে বসে মোবাইল ব্যবহারে যে ক্ষতি

8-SM715032

এই আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন কেমন যেন আমাদের শরীরের একটা অংশ হয়ে গিয়েছে। যেখানে যাই মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহুর্তও যেন আমাদের চলে না। অনেকের অভ্যাস হলো টয়লেটে ঢুকে মোবাইল স্ক্রল করতে করতে দীর্ঘ সময় বসে থাকা। মনে হয়, এটা সময় কাটানোর সহজ উপায়। কিন্তু জানেন কি? এই অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলে হেমোরয়েড বা পাইলস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, টয়লেটে মোবাইল স্ক্রল করতে করতে যারা পাঁচ মিনিট বা তার বেশি সময় বসে থাকেন, তাদের মধ্যে হেমোরয়েড হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। কারণ বেশি সময় ধরে বসে থাকলে মলদ্বারের রক্তনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে রক্ত জমে নালী ফুলে যায় এবং পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকের ভাষায়, এটি অনেকটা পানি দেওয়ার পাইপ বাঁকিয়ে রাখার মতো। যতক্ষণ বাঁকানো থাকবে, ভেতরে চাপ তত বাড়বে।

যেভাবে বুঝবেন হেমোরয়েড হচ্ছে

  • মলত্যাগের পর তাজা রক্তপাত হওয়া, সাধারণত ব্যথা ছাড়াই।
  • মনে হওয়া, ভেতর থেকে কিছু বেরিয়ে আসছে।
  • প্রথমদিকে নিজে থেকেই ভেতরে ঢুকে যায়, পরে হাত দিয়ে ঢোকাতে হয়।-
  • গুরুতর অবস্থায় মলদ্বারের বাইরে মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসে। এটা আর ভেতরে যায় না এবং ব্যথা হয়।

ঝুঁকি কমানোর উপায়

Advertisements

  • টয়লেটে মোবাইল না নেওয়া এবং বেশি সময় না বসা। আদর্শ সময় ৩–৫ মিনিট।
  • নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা।
  • হালকা ব্যায়াম করে শরীর সক্রিয় রাখা।

চিকিৎসাপাইলসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর স্তরের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ, আঁশজাতীয় খাবার আর পর্যাপ্ত পানি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখে। দ্বিতীয় ধাপে ইনজেকশন বা রাবার রিং থেরাপি দেওয়া হয়। আর তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের ক্ষেত্রে আধুনিক লেজার বা স্টেপল হেমোরয়ডোপেক্সির মাধ্যমে অপারেশন করা হয়। এই পদ্ধতি আগের মতো কষ্টদায়ক নয়।

টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করা হয়তো এক ধরনের বদঅভ্যাস। এর মূল্য দিতে হতে পারে স্বাস্থ্যের ক্ষতির মাধ্যমে। তাই এখনই সচেতন হোন। মোবাইলটা বাইরে রাখুন, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজন সেরে নিন আর শরীরকে রাখুন ঝুঁকিমুক্ত।

Advertisements