বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
এডিটরস পিক

চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীর সতর্কতা, কুসংস্কার নাকি বাস্তব বিজ্ঞান?

WhatsApp Image 2025-09-07 at 8.01.10 PM

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে চন্দ্রগ্রহণকে ঘিরে গর্ভবতী নারীদের জন্য নানান ধরনের সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা ও কুসংস্কার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা কিংবা আশপাশের মানুষজন অনেক সময় গর্ভবতী মায়েদের বলেন— গ্রহণের সময় ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার করা যাবে না, বাইরে বের হওয়া যাবে না, খাবার-দাবার থেকে বিরত থাকতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসব বিশ্বাসের পেছনে কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?

প্রচলিত কুসংস্কার ও বিশ্বাসগুলো

চন্দ্রগ্রহণকে ঘিরে সমাজে যে ধারণাগুলো প্রচলিত, তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো—

১. ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার না করা – বিশ্বাস করা হয়, গর্ভবতী নারী এ সময় ধারালো জিনিস ব্যবহার করলে শিশুর শরীরে জন্মদাগ বা কাটা দাগ দেখা দিতে পারে।
২. বাইরে বের হওয়া নিষেধ – ধারণা আছে, গ্রহণের সময় চাঁদের ‘অশুভ রশ্মি’ গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করতে পারে।
৩. সেলাই বা সূচ-সুতার কাজ না করা – অনেকে মনে করেন, এতে শিশুর ঠোঁট ফাটা বা শরীরের অঙ্গ বিকৃত হয়ে জন্মাতে পারে।
৪. খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকা – প্রচলিত বিশ্বাস হলো, গ্রহণ চলাকালে খাবার ও পানি দূষিত হয়ে যায়, তাই খাওয়া নিরাপদ নয়।
৫. শরীরে লোহা রাখা – কিছু অঞ্চলে বলা হয়, লোহার চাবি বা ছুরি সঙ্গে রাখলে গ্রহণের অশুভ প্রভাব এড়ানো যায়।

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

বাস্তবে চন্দ্রগ্রহণ কোনো ভয়ংকর বা ক্ষতিকর বিষয় নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা, যেখানে পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে চাঁদের ওপর ছায়া ফেলে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষতিকর রশ্মি বা বিকিরণ সৃষ্টি হয় না।

নাসা এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অপথালমোলজি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে— চন্দ্রগ্রহণ মানবদেহ বা গর্ভস্থ শিশুর ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

অন্যদিকে, লাইভ সায়েন্স–এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— শিশুর জন্মগত সমস্যা বা বিকলাঙ্গতার কারণ হতে পারে জেনেটিক ত্রুটি, মায়ের অপুষ্টি, সংক্রমণ বা হরমোনজনিত সমস্যা। কিন্তু এর সঙ্গে চন্দ্রগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই।

খাবার ও স্বাস্থ্যের বিষয়

চন্দ্রগ্রহণের সময় খাবার বা পানি দূষিত হয়ে যায়—এই বিশ্বাসেরও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং গর্ভবতী নারী যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন, তাহলে তার শরীরে দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশন, এমনকি মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যা গর্ভের শিশুর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চন্দ্রগ্রহণকে ঘিরে গর্ভবতী নারীদের যে সব কুসংস্কার প্রচলিত, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলো মূলত প্রাচীন সমাজে গড়ে ওঠা অজ্ঞতা ও ভয় থেকে এসেছে। তাই গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ কোনো বাড়তি সতর্কতার দরকার নেই। বরং স্বাভাবিক নিয়মে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মানা—এই বিষয়গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।