বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

তীব্র গরম বার্ধক্যের গতি বাড়ায়

IMG_7656

তীব্র গরম বা হিটওয়েভ কেবল অস্বস্তিই সৃষ্টি করছে না। এটি নীরবে মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। খ্যাতনামা বৈজ্ঞানিক জার্নাল ন্যাচার ক্লাইমেট চেঞ্জে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত গরমে থাকা শরীরের ক্ষতির দিক থেকে ধূমপান, মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের মতোই ক্ষতিকর হতে পারে।

তাইওয়ানের প্রায় ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর টানা ১৫ বছর ধরে তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, গরমের প্রভাবে মানুষের জৈবিক বয়স দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। মাত্র দুই বছরে চার দিন অতিরিক্ত হিটওয়েভের সম্মুখীন হলেও একজন মানুষের জৈবিক বয়স গড়ে প্রায় নয় দিন বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা বাইরে শ্রমমূলক কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি। একই সময়ে তাদের জৈবিক বয়স গড়ে প্রায় ৩৩ দিন বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই প্রভাবের পেছনে ডিএনএ ক্ষতি, শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি, প্রদাহ এবং হৃদযন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর অতিরিক্ত চাপ কাজ করতে পারে। যদিও মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে। যেমন ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া, ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা। তবুও গরমের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যায় না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, হিটওয়েভ শুধু তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের অবনতিও ঘটায়। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী এবং কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।গবেষকদের মতে, তীব্র গরম এখন আর কেবল একটি সাময়িক অসুবিধা নয়। বরং এটি মানুষের দ্রুত বার্ধক্য ও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির এক নীরব চালক। তাই গরমের প্রভাবকে হালকাভাবে না নিয়ে প্রতিদিনের জীবনযাপনে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।