বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

স্কিন কেয়ার ব্যবসায়ীদের জন্য ‘গোল্ডেন সুযোগ’ নাকি ঝুঁকি?

Valentines-Day-Skincare-Gifts-For-Women-Hero-SCD-020520

স্থানীয় স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্ট উৎপাদন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে আমদানি শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট দুটি কাঁচামালের ওপর বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুল্ক হ্রাস কার্যকর হলে স্থানীয়ভাবে কসমেটিকস, স্কিন কেয়ার এবং পার্সোনাল কেয়ার পণ্যের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব শিল্প আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, শুল্ক কমানোর ফলে দেশীয় উৎপাদনকারীরা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (SME) সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন।

বাংলাদেশে স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টের বাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নগরায়ন এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই খাতের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তবে কাঁচামাল আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যয়ের বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুল্ক হ্রাস বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। তবে তারা একই সঙ্গে উৎপাদন মান, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কেয়ারবাজেটব্যবসায়ীস্কিন