বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

এসপিএফ আসলে কী? সানস্ক্রিন নিয়ে ভ্রান্ত ধারণার সত্য

1-SM924357

গরমের দিন মানেই প্রচণ্ড রোদ, ঘাম আর তার সঙ্গে সানস্ক্রিনের টিউব। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, সানস্ক্রিন নিয়ে এখনো অনেক ভুল ধারণা রয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সার থেকে শুরু করে অনেক সময় বিশেষজ্ঞেরাও এ নিয়ে দ্বিধা তৈরি করেন। ফলে ব্যবহারকারীরা পড়ে যান বিভ্রান্তিতে।

তাহলে সানস্ক্রিন আসলে কতটা কার্যকর? এসপিএফ (SPF) মানে কী? মেঘলা দিনে কি সত্যিই সানস্ক্রিনের দরকার হয় না? চলুন, বিজ্ঞানের আলোকে জেনে নেওয়া যাক, এসপিএফ মানে কী?

অনেকে ভাবেন, এসপিএফ-৫০ মানে আপনি সানস্ক্রিন মেখে ৫০ গুণ বেশি সময় রোদে থাকতে পারবেন। আসলে তা নয়। এসপিএফ কেবল জানায় রোদে পোড়ার জন্য দায়ী ইউভি রশ্মির কত শতাংশ আপনার ত্বকে পৌঁছাবে। যেমন এসপিএফ-২৫ আটকায় প্রায় ৯৬%, এসপিএফ-৫০ আটকায় প্রায় ৯৮%।

তবে বাস্তবে আমরা যে পরিমাণ সানস্ক্রিন মাখি, তা গবেষণাগারের মানের তুলনায় অনেক কম হয়। তাই সঠিক সুরক্ষা পেতে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর আবার সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি।

Advertisements

ইউভিএ আর ইউভিবি দুটোই ক্ষতিকর। অনেকে বলেন, শুধু ইউভিবি ক্যান্সারের জন্য দায়ী আর ইউভিএ কেবল ত্বক কালো করে। সত্য হলো দুটোই ক্ষতিকর।ইউভিএ ত্বকের গভীরে ঢুকে কালো দাগ, বয়সের ছাপ বাড়ায়।ইউভিবি ত্বকের বাইরের স্তর পোড়ায়।দীর্ঘদিন এই দুই রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন সবচেয়ে নিরাপদ।অনেকে ভাবেন, মেঘ থাকলে রোদে পোড়া হয় না। কিন্তু পাতলা মেঘ ইউভি রশ্মিকে আটকে রাখতে পারে না। বরং কখনো কখনো রোদ প্রতিফলিত হয়ে আরও ক্ষতি করতে পারে। তাই মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি।

কেবল ছাতার নিচে বসলে পুরোপুরি নিরাপদ থাকা যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, ছাতার নিচেও প্রায় ৭৮% মানুষ রোদে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে ঘন পাতাওয়ালা গাছ প্রাকৃতিকভাবে প্রায় এসপিএফ-২০ সুরক্ষা দেয়। তবে বালু, পানি বা কাঁচ থেকেও রোদ প্রতিফলিত হয়ে ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যদি ইউভি সূচক ২-এর নিচে থাকে, তাহলে সানস্ক্রিন লাগানো বাধ্যতামূলক নয়। যেমন যুক্তরাজ্যে শীতকালে সূচক সাধারণত ৩-এর নিচে থাকে। তবে বরফে ঢাকা এলাকায় ভ্রমণের সময় ইউভি রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

  • সানস্ক্রিন ২০ মিনিট পর কাজ করে → ভুল। মাখার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হয়।-
  • গাঢ় ত্বকে সানস্ক্রিন দরকার নেই → ভুল। সব ত্বকই পোড়া ও ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়ে।
  • সানস্ক্রিন ভিটামিন ডি কমায় → না। সামান্য রোদ পেলেই শরীর যথেষ্ট ভিটামিন ডি তৈরি করে।
  • সানস্ক্রিন ক্যান্সার বাড়ায় → একেবারেই না।

বরং ঠিকভাবে ব্যবহার না করলে ঝুঁকি বাড়ে।সানস্ক্রিন কোনো বিলাসিতা নয়। এটি প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বক শুধু সুন্দরই থাকবে না। দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগ থেকেও সুরক্ষিত থাকবে।

Advertisements