বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

আদিম জোছনায়

আদিম জোছনায়

ধরো খুব আদিম কালে আমরা জন্মেছি

পোষাক তখন মানুষকে লজ্জা দেয়নি ।

আদিম শিল্পের মত দেহ নিয়ে ঘুরে বেড়াচেছ আরণ্যক মানুষ

এ বন থেকে ও বনে

এ পাহাড় থেকে ও পাহাড়ে

সেই আদিম পৃথিবীতে দেখা আমাদের

একসাথে খুঁজেছি খাবার

হরিণ শিশুর সাথে ছুটেছি বনে বনে

প্রজাপতি ধরে দিয়েছি তোমার হাতে

আদিম পৃথিবীর অরণ্যে রাত নামলো

দিনের পাখিরা গান থামাতেই গান ধরলো রাতের পাখিরা

সে গানের সুরে আদিম অরণ্যে উঠে এলো চাঁদ

জোছনা ছুটে এলো অরণ্যের বুকে

ঝলমল করে উঠল নূড়ির ঘুঙ্গুর পড়া পাহাড়ী ঝর্ণা

যূথবদ্ধ তৃষ্ণার্ত হরিণ চুমুক দিলো জোছনা মাখা ঝর্ণার জলে

জল নয় যেন গলিত জোছনা আকন্ঠ পান করছে হরিণের দল

আদিম অরণ্যে আদিম চাঁদের নীচে তুমি আমার হাতে রাখলে হাত

আমার বুকের সমতল ভূমিতে রাখলে তোমার পাহাড়ী বুক।

তখনো মুখের ভাষা মানুষকে করেনি মুখর

না কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না সেই অনিবার্য কথাটি

হঠাৎ আদিম জোছনায় তৃষ্ণার্ত হরিনের পাশে দাঁড়িয়ে

তুমি আমার ঠোঁটে রাখলে ঠোঁট

হঠাৎ শরীরের সবটুকু জোছনা ঢেলে দিল চাঁদ

আদিম অরণ্য হয়ে উঠল গাঢ় রহস্যময়

হরিণেরা দাঁড়ালো একে অপরের উষ্ণ সান্নিধ্যে

হঠাৎ রাতের পাখিরা আদিম সংগীতে

ভরিয়ে দিল রাতের পৃথিবী

হঠাৎ মনে হল ভাষাহীন ভাষায়

আমরা কথা বলে চলেছি অনন্তকাল

বলে চলেছি ‘ভালোবাসি’

জোছনা মগ্ন আদিম পৃথিবীতে

সেই ছিল মানুষের প্রথম চুম্বন ।