বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
পাঠক কর্নার

নাহিদ ফেরদৌসের এক গুচ্ছ কবিতা

নাহিদ ফেরদৌসের এক গুচ্ছ কবিতা

আরও গভীর করে লিখো

আরও গভীর করে লিখো!

যেন স্মৃতি হয়!

যেন আলো হয়!

যেন নিশুতিরাতের

একটা ছোট্ট ঝিঝির ডাক হয়ে

কানে বাজে!

অতঃপর,

কেউ কারো জন্য

আর অপেক্ষা করি না,

সেই কবে থেকেই তো

আমরা ঝিমুই !

দাবির বাতিটি নিভিয়ে

আমরা ঘুমোই !

ভালোর খেয়াল

ভাল্লাগেনা কিছুই যখন

একটা গাঢ় শাড়ির মতো

দীঘির গভীর জলের মতো

চোখের নরক ফুলের মতো

একটা ছবি আঁকতে গিয়ে

পাড়ভাঙ্গা সেই নদীর তীরে

বসতে গিয়ে একটা শামুক কুড়িয়ে হাতে

হাঁসের ছানার আধার খুঁজে

ফের আবারও বাসায় যেতে

গা জুড়িয়ে দিতে পারার

হাওয়ায় পুড়ে রঙ্গিন হয়ে

পথের সাথে নিয়মকরে কথা কয়ে

বালির সাথে পা দুখানি কচলে দিয়ে

মিছেমিছি দুঃখ মুছি! দুঃখ মুছি!

অতিথি ছিলাম

তোমাকে লিখতে গিয়ে হাত কাঁপে

কাঁপে বুক, নিয়ে বিদুষী হাহাকার!

তোমাকে ভাবতে গিয়ে পথ হারাই

যেখানে ভালোবাসার ভিটে মাটি

আর এক গোলাপ বিকেল ছিলো

আমাদের, মানে তোমার আমার!

চোখের পাতায় জমে রক্তদানা!

ফুলগুলো ছুটে গিয়ে অযথাই

ফোটে রঙিন কার্পেটে!

বিকেলের ঘ্রাণ কেড়ে নিয়েছে

ছলনাময়ী পারফিউমের বোতল!

চেয়ে দেখো!

আমাদের দিন ছুটে যেতে যেতে

একেবারে সব ফুরিয়ে গেলো!

স্মৃতিতে ডুবেছে পথ

বাদামী চোখের গভীর চাহুনি

উপরে নীল আকাশ।

সামনে এক্কা দোক্কার তাতানো উঠোন।

স্বচ্ছ হীরের মতো শিশিরের তিব্রতা পায়ের তলে।

বেলাশেষে পথ খোঁজা নিভানো আলোয়!

গরম রোদের হাওয়ায় জড়িয়ে স্কুল শেষে

ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দল করে বাড়ি ফেরা,

কখনো বা সেই চোখের হঠাৎ তীব্র চাহুনী

বুকের বাঁ পাশে ঝড় তুলে দেয়া!

আমরা আছি, অসমাপ্ত হয়ে বেঁচে।

টুকরো জমানো অতীত স্মৃতিতে মিলেমিশে!

বলো, এটাও বা কম কিসে!