ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করুন ফেসওয়াশ

ফেসওয়াশ আমাদের রোজকার ত্বক-পরিচর্যার সবচেয়ে প্রচলিত প্রসাধনী। সকাল-বিকেল মুখ ধোয়ার সময় বেশির ভাগ মানুষই এটি ব্যবহার করেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা পছন্দের ব্র্যান্ড দেখে কিনে ফেলি। ত্বকের ধরন বা প্রয়োজন কতটা মানাচ্ছে, সেটা ভাবি না। তারপরই শুরু হয় অভিযোগ, “এত ভালো ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ ব্যবহার করেও ত্বক ঠিক হচ্ছে না”। আসল কথা হলো, যতো দামি বা নামী ব্র্যান্ডই হোক ফেসওয়াশ যদি ত্বকের উপযোগী না হয় তবে তা থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
সঠিক ফেসওয়াশের লক্ষণ কী?
ফেসওয়াশের প্রধান কাজ ত্বক পরিষ্কার রাখা। কিন্তু ত্বক নিজেই বলে দেয়, আপনি সঠিক ফেসওয়াশ বেছে নিয়েছেন কি না। যদি ব্যবহারের পর ত্বক অতি শুষ্ক হয়ে যায়, তেলতেলে লাগে, লাল হয়ে যায় বা জ্বালা করে তাহলে বুঝবেন সেটি আপনার জন্য নয়। সঠিক ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে মুখ ধোয়ার পর ত্বক থাকবে সতেজ, মসৃণ ও উজ্জ্বল। তবে একদিনে ফল পাওয়ার আশা না করে অন্তত এক সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশের ধরন হওয়া উচিৎ। শুষ্ক ত্বকের জন্য মাইল্ড বা জেন্টল ফেসওয়াশ বেছে নিন। এতে গ্লিসারিন, সেরামাইড, ল্যানোলিন বা মিনারেল অয়েলের মতো ময়শ্চারাইজিং উপাদান থাকে। ফোমিং ফেসওয়াশ বা অতিরিক্ত সুগন্ধি ও অ্যালকোহলযুক্ত ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলাই ভালো।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা, টি-ট্রি অয়েল বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ফেসওয়াশ উপকারী। এগুলো বাড়তি তেল শুষে নেয়, আবার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনও ঠিক রাখে। মিশ্র বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ক্রিম-বেজড বা মেডিকেটেড আলট্রা-জেন্টল ফেসওয়াশ ভালো, যাতে প্যারাবেন, সোপ, সুগন্ধি ও অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান না থাকে।
বিশেষ ক্ষেত্রে ফেসওয়াশ যদি ত্বকে অতিরিক্ত ব্রণ থাকে তবে শুধুমাত্র তেল কমানোর দিকে না গিয়ে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখাও জরুরি। বেনজোইল পার-অক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা সালফারযুক্ত মেডিকেটেড ফেসওয়াশ ব্রণ কমাতে ও রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

ফেসওয়াশের মূল ধরন
কোমল ফেসওয়াশ – ভিটামিন ই, অ্যালোভেরা, দুধ বা প্রাকৃতিক তেল সমৃদ্ধ; শুষ্ক ত্বকের জন্য আদর্শ।
ফোমিং ফেসওয়াশ – ডিপ ক্লিনিং করে, তৈলাক্ত ত্বক ও মেকআপ তুলতে ভালো।
নন-ফোমিং ফেসওয়াশ- ত্বকের প্রাকৃতিক তেল না শুষে ময়লা দূর করে; সংবেদনশীল বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে উপযোগী।
মেডিকেটেড ফেসওয়াশ – ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর। সাধারণত বিশেষ উপাদান যেমন স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা টি-ট্রি অয়েল থাকে।
ত্বকের যত্নে ফেসওয়াশ বেছে নেওয়া যেন শুধু পছন্দ নয় বরং প্রয়োজনের সাথে মানানসই হয়। নিজের ত্বকের ধরন জেনে উপযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে সুস্থ, সতেজ ও উজ্জ্বল আর অযথা ব্র্যান্ড বদলানোর ঝামেলাও কমে যাবে।



