নি:সঙ্গতায় কাটলো অচলা সচদেবের শেষ সময়
বলিউডের স্বর্ণযুগের যেমন রাজ কাপুর, যশ চোপড়া, রাজেশ খান্না আর দেব আনন্দ তেমনি তাদের মাঝে ছিলেন অচলা সচদেব। শতাধিক ছবিতে তার উপস্থিতি ছিল চলচ্চিত্রের এ...

বলিউডের স্বর্ণযুগের যেমন রাজ কাপুর, যশ চোপড়া, রাজেশ খান্না আর দেব আনন্দ তেমনি তাদের মাঝে ছিলেন অচলা সচদেব। শতাধিক ছবিতে তার উপস্থিতি ছিল চলচ্চিত্রের এক অনবদ্য সান্নিধ্য। ‘ দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ – র কাজলের দাদির চরিত্রে তাকে দেখা যায়।‘ ওয়াক্ত’ ছবির ঐ অমর গান ‘ আয়ে মেরি জোহরা জবীন’- এর নায়িকা হিসেবেও তিনি ছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক বিষাদময় বাস্তবতা।
১৯২০ সালে পেশোয়ারে জন্মগ্রহণ করা অচলা সচদেবের অভিনয় যাত্রা শুরু হয় পঞ্চাশের দশকে। ‘মেরা নাম জোকার’, ‘হকিকত’, ‘হিমালয় কি গোদ মে’, ‘নাইন আওয়ার্স টু রামা’ সহ বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি ছবিতে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাকে মা-দাদির চরিত্রে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে। তবু ২০০০- এর দশকের শুরু পর্যন্ত নিজেকে ধরে রেখেছিলেন। করণ জোহরের ‘কাভি খুশি কাভি গম’ ছিল তার শেষ আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে একটি।
তবে জীবনের শেষ সময়গুলো কাটিয়েছেন একাকীত্বে। পুনের এক ছোট ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন প্রায় ১২ বছর পাশে ছিল কেবল একজন সেবিকা। দুই সন্তানসহ কেউ তার খোঁজ নেয়নি। তার জীবনের অবহেলা যেন বলিউডের অনেক তারকার এক করুণ বাস্তবতা। মৃত্যু পূর্বে তিনি তার বাড়িটি দান করেছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। যাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ অচলা সচদেব ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন’, যেখানে পাহাড়ি ও আদিবাসী এলাকায় হাসপাতাল ও রোগী সেবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অচলা সচদেব ২০১২ সালে পুনেতে ৯১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন ও একতা কাপুর। তবে ছেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে সীমিত আত্মীয়দের সঙ্গে তার শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়েছিলেন। অচলা সচদেবের জীবন সিনেমার মতো।


