বয়ঃসন্ধিতে ত্বকের যত্ন

বয়ঃসন্ধি মানেই জীবনের এক নতুন অধ্যায়। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চেহারাতেও আসে ভিন্নতা। ত্বক হয়ে ওঠে কোমল, কখনো বা তেলতেলে। কখনো আবার দেখা দেয় ব্রণের ঝামেলা। এই বয়সে মায়ের থেকে মেয়েটি যদি একদিন মুখে কিছু লাগাতে চায়, তখন অনেক সময়ই শুনতে হয়, “এই কচি ত্বকে এসব লাগিয়ে নষ্ট করো না তো!” মায়ের কথাটা ভুল নয়। তবে এই বয়সেই কিন্তু ত্বক ও চুলের যত্নের ভিত্তিটা গড়ে তোলা দরকার। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ভারী রূপচর্চা একদম নয়। বরং হালকা ও সহজ যত্নই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর। এই বয়সে যে সমস্যা গুলো বেশি হয় –

ব্রণের ঝামেলা – বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মুখ, কপাল, গাল এমনকি ঘাড় ও পিঠেও ব্রণ দেখা দিতে পারে। মুখে অতিরিক্ত তেল, ধুলাবালি জমে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাতেই সৃষ্টি হয় ব্রণ। প্রতিদিন ২ বার মুখ ধোয়া, অয়েল ফ্রি ফেসওয়াশ ব্যবহার এবং পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নেওয়া জরুরি। ফাউন্ডেশন বা প্যানকেক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক – বেশি তেলতেলে ত্বকও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দিনে ২ বার মুখ ধুয়ে নিন। অয়েল কন্ট্রোল ক্লিনজার ব্যবহার করুন এবং হালকা ময়শ্চারাইজার লাগান। চাইলে ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিতে পারেন কয়েক ঘণ্টা পরপর।
শুষ্ক ত্বক বা এগজিমা – অনেক কিশোরীর ত্বক এতটাই শুষ্ক হয় যে চুলকানি হয় তাতে ত্বক লাল হয়ে যায়। এমন হলে সুগন্ধবিহীন লোশন ব্যবহার করুন। ত্বকে যেসব জায়গায় সমস্যা বেশি সেখানে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চুলের যত্নও জরুরি – চুল পড়া, রুক্ষতা কিংবা খুশকি এই বয়সে সবই দেখা দেয়। চুল ভালো রাখতে ডিম, বাদাম ও মাছ নিয়মিত খেতে হবে। সপ্তাহে ১ দিন হট অয়েল ম্যাসাজ ও ২ দিন শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ও হেয়ার সেরাম লাগান। খুশকি হলে পাতিলেবুর রস মাথার স্কিনে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন। চুলে রিবন্ডিং বা রঙ করানো এ বয়সে না করাই ভালো।

তাই এই বয়সেই রূপচর্চার সঠিক অভ্যাস গড়ুন। প্রতিদিন সকালে ও রাতে মুখ ধোবেন।সপ্তাহে একবার হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করুন। ব্রাউন সুগার আর মধু দিয়ে ঘরেই বানানো যায় চমৎকার স্ক্রাব।রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।বাইরে থেকে এলে পা ধুয়ে পরিষ্কার করে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
এই বয়সে খাদ্যাভ্যাসেও সচেতনতা দরকার। সুন্দর ত্বক ও চুল পেতে চাইলে শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, খাদ্যাভ্যাসও ঠিক রাখতে হবে। প্রতিদিন ফল, শাকসবজি ও প্রচুর পানি খেতে হবে।অতিরিক্ত তেল ও চিনি এড়িয়ে চলুন। সময়মতো ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
বয়ঃসন্ধি মানেই হরমোনের দাপট, শরীরের নানা পরিবর্তন। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই সময়টা হতে পারে সুন্দর ও আনন্দময়। বাড়তি প্রসাধনী নয়, বরং ঘরোয়া যত্ন আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই হোক কিশোরীর রূপচর্চার প্রথম পাঠ।



