চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না সামান্থা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তেলেগু কমিউনিটির এক বিশাল আয়োজনে অংশ নিয়ে আবেগে ভেসে গেলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। ২০২৫ সালের তেলেগু অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (TANA)-এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
অনুষ্ঠানের একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সামান্থা মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কিছুক্ষণ পর আবেগ এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, কান্না চেপে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন তিনি। এমনকি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে মাথাও নিচু করেন এই তারকা।
“১৫ বছর লেগে গেল আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে”
দীর্ঘ সময়ের অভিনয়জীবনে তেলেগু দর্শকদের ভালোবাসা বরাবরই পেয়েছেন সামান্থা। কিন্তু মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ এতদিন হয়নি বলেই মন্তব্য করেন তিনি। সামান্থা বলেন,“আমি কখনোই আপনাদের ধন্যবাদ বলার সময় পাইনি। আমার প্রথম ছবির পর থেকেই আপনারা আমাকে ভালোবেসে নিয়েছেন, পাশে ছিলেন। বিশ্বাসই হচ্ছে না, সেই কৃতজ্ঞতা জানাতে আমাকে ১৫ বছর সময় লেগে গেল! যদিও দেরি হয়েছে, তবু মনে হচ্ছে, এখনই উপযুক্ত সময়।”
এই মুহূর্তে সামান্থা নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, তিনি এত বছর পরও দর্শকদের একইরকম ভালোবাসা পাচ্ছেন। তাঁর চোখে-মুখে ছিল কৃতজ্ঞতা আর আবেগের ছাপ।
“আমি যত ভুলই করি না কেন, আপনারা কখনো আমাকে ছেড়ে যাননি”
বক্তব্যের আরেকটি পর্বে সামান্থা বলেন,“আমি যা করেছি, যত ভুল করেছি, আপনারা কখনো আমাকে ছেড়ে যাননি। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আমি যেখানে যাই, যা করি, যেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি না কেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় একটাই প্রশ্ন মাথায় আসে—তেলেগু দর্শকেরা কি আমার কাজ দেখে গর্বিত হবেন?”
এই কথাগুলো বলার সময়েই কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর। আবেগে চোখ ভিজে ওঠে, যা উপস্থিত দর্শকদেরও নাড়া দেয়।
সাম্প্রতিক কাজ ও নতুন যাত্রা
নিজের প্রযোজনায় সামান্থার প্রথম চলচ্চিত্র ‘শুভম’ মুক্তি পেয়েছে ২০২৫ সালের ৯ মে। প্রবীণ কান্দ্রেগুলা পরিচালিত এই হরর-কমেডি ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেছেন হর্ষিত মালগিরেড্ডি, শ্রিয়া কোন্থাম, চারণ পেরি, শালিনী কোন্দেপুরি, গবিরেড্ডি শ্রীনিবাস ও শ্রাবণী।এটি সামান্থার জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা—অভিনয় থেকে প্রযোজনায় পা রাখা।
এর আগে তিনি কাজ করেছেন অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘সিটাডেল: হানি বানি’-তে, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। রাজ ও ডিকে পরিচালিত এই সিরিজটি হলো মার্কিন হিট সিরিজ ‘সিটাডেল’-এর ভারতীয় সংস্করণ।
এক আত্মবিশ্বাসী অভিনেত্রীর আবেগময় মুহূর্ত
সামান্থার এই কান্না ছিল কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দীর্ঘ ১৫ বছরের এক গৌরবময় পথচলার প্রতিফলন। কখনো চরিত্রে সাহসী, কখনো ভাঙা হৃদয়ের গল্প বলার মাঝে সামান্থা যেন আজ নিজেই বললেন নিজের গল্প—ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর দর্শকদের প্রতি তাঁর অটুট বন্ধনের গল্প।



