কাঁচি হাতে এক খুনির অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যাওয়া রহস্য

শহরে একের পর এক নারী খুন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। খুনের অস্ত্র একটিই সাধারণ একটি কাঁচি। আর খুনি? সে যেন ঠিক সামনে থেকেও ধরা পড়ে না। প্রতিটি তদন্ত যেন শেষমেশ গিয়ে দাঁড়ায় এক রহস্যময় গলিতে। যেখান থেকে আর কোনো সুরাহা মেলে না। ঠিক এই থিমেই তৈরি হয়েছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কানাগলি’। সম্প্রতি বঙ্গ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটি।
সিরিজটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজকে ঘিরে। দায়িত্ব পান এসব খুনের তদন্তের। কিন্তু যতই এগিয়ে যান ততই জড়িয়ে পড়েন অন্ধকার রহস্যে। এটা কি নিছক এক উন্মাদ খুনির খেলা নাকি সমাজে লুকিয়ে থাকা কোনো দগদগে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ?
সিরিজটি পরিচালনা করেছেন আহমেদ জিহাদ। এটি তাঁর প্রথম ওয়েব সিরিজ হলেও এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি। চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি নিজেই গল্প দিয়েছেন ঋদ্ধ শরিফ। পরিচালক জানালেন কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে ট্রেনেই তাঁর সঙ্গে ঋদ্ধ শরিফের পরিচয়। পরে ফেসবুকে যুক্ত হয়ে গল্পটি নিয়ে আলাপ শুরু হয়। ‘‘উনি মূলত উপন্যাস লিখতে চেয়েছিলেন। আমি বলি এটা ওয়েব সিরিজ হতে পারে। এরপর শুরু হয় আমাদের যৌথ যাত্রা।’’
গল্পের ভাবনা থেকে ক্যামেরার সামনে তা দাঁড় করাতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। শুটিং হয়েছে পুরান ঢাকা, সাভার, মানিকগঞ্জ ও উত্তরাসহ বিভিন্ন লোকেশনে।

পরিচালক বলছেন, “প্রতিটি খুনের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ যেন হারিয়ে যায় এক গলিতে। যার কোনো শেষ নেই। সেই অচেনা গলিই আমাদের এই সিরিজের নাম।”
তবে এটি কেবল থ্রিলার নয়। গল্পে রয়েছে সমাজের এক নিঃশব্দ যন্ত্রণা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি অবহেলা ও বুলিং। জিহাদ বলেন, ‘‘ওরা অনেক সময় চুপচাপ সহ্য করে যায়। কিন্তু সেই সহ্য যখন সীমা ছাড়ায় তখন কী হতে পারে। সেটাই দেখানো হয়েছে।’’
সিরিজে মাহফুজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা। তাঁর সঙ্গে পরিচালক জিহাদের বোঝাপড়া দীর্ঘদিনের, যেটা পর্দায়ও নানাভাবে ধরা দিয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন কাজী নওশাবা আহমেদ, আইশা খান, লুৎফুর রহমান জর্জ, আবু হুরায়রা তানভীর, নাজিবা বাশার প্রমুখ।
কাজী নওশাবা বলেন, ‘‘চরিত্রটা অতিথি হলেও দারুণ প্রভাবশালী। থ্রিলার জঁরায় কাজ করার সুযোগ কম পাই। এই সিরিজে কাজ করে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।’’
জানা গেল সিরিজটি শুরুতে নেটফ্লিক্সে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী একটি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে মুক্তির জন্য বঙ্গ প্ল্যাটফর্মকে বেছে নেওয়া হয়।
পরিচালক জিহাদ মনে করেন, ‘‘আমরা হয়তো হলিউড বা বড় প্রোডাকশন হাউজের মতো বিশাল কিছু বানাতে পারি না। কিন্তু আমাদের গল্প আমাদের বাস্তবতা নিয়ে তৈরি এই সিরিজটি দর্শককে হতাশ করবে না।’’
‘কানাগলি’ কেবল এক খুনির গল্প নয় এটা এক সমাজের আয়না। এই গল্পে অসংখ্য মানুষ প্রতিবন্ধকতা বয়ে চলেন নীরবে। আবার কখনো সেই নীরবতা রূপ নেয় বিস্ফোরণে। আপনি যদি সাইকো-থ্রিলার পছন্দ করেন। আর চেনা প্রেক্ষাপটে অন্যরকম গল্প দেখতে চান। তবে ‘কানাগলি’ হতে পারে আপনার পরবর্তী দেখা ওয়েব সিরিজ।



