বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
স্বাস্থ্য

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া সমাধান

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এখন বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে...

IMG_5900

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এখন বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে আশার কথা হলো শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাত্রায় কিছু সাধারণ পরিবর্তন আর কিছু ঘরোয়া অভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণভাবে সহায়তা করতে পারে।

তরমুজ দিয়ে দিন শুরু করুন 
তরমুজে আছে সিট্রুলিন নামক এক প্রাকৃতিক অ্যামিনো অ্যাসিড, যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সাহায্য করে। এটি রক্তনালিকে শিথিল করে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে, ফলে রক্তচাপ কমে। সকালে খালি পেটে এক কাপ তরমুজ খেলে আরও ভালো ফল মিলতে পারে।

প্রতিদিন খান শাকসবজি
পালং, লাউ, ঢেঁড়স যেকোনো শাকসবজিতেই থাকে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং রক্তনালিকে প্রশস্ত করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত একবেলা পাতে শাকসবজি রাখুন।

বাদাম ও বীজ রাখুন হাতের কাছে
পেস্তা, আখরোট, তিসিবীজ কিংবা কুমড়ার বীজে আছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার ও নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদক উপাদান। তবে ক্যালরি বেশি হওয়ায় একমুঠো বা তার কম খেলেই যথেষ্ট। খেয়াল রাখুন যেন এতে লবণ না থাকে।

বিট রাখুন খাদ্যতালিকায়
বিটে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রেট থাকে। এতে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত হয়ে রক্তচাপ কমায়। বিট সিদ্ধ করে খেতে পারেন অথবা দিনে একবার চিনি ছাড়া বিট জুস খেলেও উপকার পাবেন।

ফ্যাটযুক্ত মাছ 
স্যালমন, ম্যাকারেল, সার্ডিনের মতো ফ্যাটযুক্ত মাছে থাকে ওমেগা-৩। এগুলো প্রদাহ কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ১০০ গ্রামের মতো মাছ রাখুন মেনুতে। নিরামিষভোজীদের জন্য আখরোট বা চিয়া সিড হতে পারে বিকল্প।

সাইট্রাস ফল রাখুন নিয়মিত
কমলা, মাল্টা, লেবুর মতো সাইট্রাস ফলে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পটাশিয়াম যা রক্তচাপের জন্য উপকারী। প্রতিদিন এক বা দুটি ফল খান অথবা পানিতে লেবু/মাল্টা ফালি দিয়ে তৈরি করুন হাইড্রেটিং পানীয়। তবে গ্রেপফ্রুট ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

হাঁটুন প্রতিদিন, চলুন নিয়মিত
নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। চাইলে যোগব্যায়ামও করতে পারেন। তবে সবার আগে প্রয়োজন একটানা নিয়ম মেনে চলা।

সতর্কবার্তা
উল্লিখিত উপায়গুলো সহায়ক হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে। আবার ডায়াবেটিসসহ অন্য শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে সব খাবার মানানসই নাও হতে পারে। তাই খাদ্য বা অভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। 

আপনার রক্তচাপ আপনি নিজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। কিছু সহজ অভ্যাস, একটু যত্ন আর সচেতনতা হলেই বদলে যেতে পারে স্বাস্থ্যচিত্র। তাই নিজের শরীরের যত্ন নিন ঘরে বসেই