৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, সেপ্টেম্বরের শেষে প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে

images (5)

বর্ষা শেষের দিকে এলেও ডেঙ্গুর আশঙ্কা যেন কাটছে না। বরং দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

সামনে আরও কঠিন সময়?

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুতে সংক্রমণের চাপ আরও বাড়তে পারে। ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। তাই রোগীর সংখ্যা কমাতে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি। আর এ কাজে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিন মাসের সচেতনতা অভিযান

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করা হবে। বাড়ি, অফিস কিংবা আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হবে। কারণ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা এলাকার একার দায়িত্ব নয়—সামগ্রিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই কার্যক্রমে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং মশার লার্ভা ধ্বংসের মতো কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisements

শুধু রোগী কমানো নয়, মৃত্যুও ঠেকাতে হবে

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের দুটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী—আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। রোগী বাড়লে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি মাথায় রেখে ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর চিকিৎসায় রোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতাও নিশ্চিত করা জরুরি।

হাসপাতালেও আগাম প্রস্তুতি

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন কিংবা পরীক্ষার কিটের সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা যেন বাস্তবে না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান রোগীর হার বিবেচনায় পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শুধু নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে হাসপাতালের অন্যান্য শয্যাও প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালকেও প্রস্তুত থাকার আহ্বান

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ডেঙ্গুর মৌসুমে চিকিৎসা ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এখনই সতর্ক হওয়ার সময়

ডেঙ্গুর প্রকোপ কখন সর্বোচ্চ হবে, তা পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও সম্ভাব্য ঝুঁকির সময়ের আগে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত কিট-স্যালাইন মজুতের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা—সবকিছুকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

কারণ ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু হাসপাতালের ভেতরে নয়, শুরু করতে হবে বাড়ির আঙিনা, কর্মস্থল এবং আশপাশের পরিবেশ থেকেই। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুর দিকে যদি প্রকোপ সত্যিই বাড়ে, তাহলে আগাম সতর্কতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে।

Advertisements